ইউএন উইমেন নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই কাজ করে থাকে এমনটি জানান ইউএন উইমেন বাংলাদেশের জেন্ডার রেসপন্সিভ গভর্নেস এর প্রোগ্রাম এনালিস্ট ( ইউনিট ম্যানেজার) তপতী সাহা। গত সপ্তাহে ঢাকায় নারী পক্ষ ও ইউএন উইমেন এর উদ্যোগে আয়োজিত “নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশে সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক দ’ুদিন ব্যাপী কর্মশালায় তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশ বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বে নারী পুরুষের সংখ্যা অর্ধেক হলেও নারী এখনো অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারী একজন পুরুষের মতো উপযুক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। নারীর এই সক্ষমতা ও সম অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ইউএন উইমেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। মূলতঃ নারীর ক্ষমতায়ন এর অর্থ হলো, নারীকে রাজনৈতিকভাবে সফল ও সক্ষম হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা। এই জায়গায় নানা কারণে নারী নেতৃত্ব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। আমাদের দেশেরও একই অবস্থা। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্য প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশ্ব যে পরিমাণ এগিয়েছে, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কিংবা অন্যান্য বিকাশে আমরা এখনো সেই আগের জায়গায় রয়ে গেছি। বরং গভীরভাবে চিন্তা করলে আমরা আগের জায়গা থেকেও অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এই অবস্থা থেকে নারীদের অবস্থান সুদৃঢ় ও মজবুত করতেই নারী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছে। সেদিন এর দু’দিন ব্যাপী আয়োজিত কর্মশালাটিও ছিল সেই ধারাবাহিকতারই অংশস্বরূপ। কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের নারী নেত্রীরা অংশগ্রহণ করে। তরুণ নারী প্রজন্মকে কিভাবে সচেতন করা যায়, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নবীন প্রবীণ এর মাঝে একটি সুদৃঢ় সেতুবন্ধন কি ভাবে তৈরি করে সারা দেশের নারীদের মাঝে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও এর সফল বাস্তবায়ন করা যায়, বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোথায় কোথায় বাধা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেসব চিহ্নিত করা, কি ধরনের কার্যকর ও সঠিক কর্মসূিচ হাতে নেয়া যায়, এই সংক্রান্ত বেশকিছু ইস্যু এই কর্মশালায় অত্যন্ত সাবলীল, সহজ ও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সিনিয়র নারী প্রজন্ম কিভাবে এই মেসেজগুলো নবীন নারী প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে? নবীন প্রজন্ম জেন জিদের, অবাধ তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এখন তাদের হাতের মুঠোয়। অন্যদিকে একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে গিয়ে ঘরের চার দেয়ালে কেবল পিতা মাতা ও স্বল্প ভাইবোন কিংবা একা একজন বেড়ে উঠা প্রজন্ম আজ হতাশায় নিমজ্জিত। সে আত্মীয় স্বজন পাড়াপড়শি কারো সাথেই মিশতে পারেনা। কারণ সে এই সুযোগ পায়নি। ফলে সে একা ও নিসঙ্গ জীবনযাপন করতে গিয়ে ভেতরে ভেতরে অনেক হিংস্র ও অনেক নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে সঙ্গী করেই বেড়ে উঠেছে। সঠিক পারিবারিক শিক্ষার অভাবেই আমরা এই প্রজন্মকে এত এত নেতিবাচক হিসেবেই দেখতে পারছি। বর্তমানের ‘মব’ ইস্যু কিংবা মূল্যবোধের অবক্ষয় এই ভয়ংকর বাস্তবতারই প্রতিফলন। ফলে এই নবীন প্রজন্ম, কথিত ‘জেন জি’ এদের কিভাবে পরিচালিত করতে হবে? রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে তাদের কিভাবে সচেতন করতে হবে? অবশ্যই বেশ কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং বটে! কর্মশালায় এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। দেশের নারী নেত্রীরা স্ব স্ব অবস্থান থেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। দেশ ও জাতির চরম সংকটে এই ধরনের একটি কর্মশালার আয়োজন আসলেই সময়োপযোগী। কেননা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের একাধিক নারীনেত্রীদের অংশগ্রহণে এই আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে যা নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এই জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। কৃতজ্ঞতা ইউএন উইমেনের প্রতি। নারীর পথ চলা সুদৃঢ় আর মসৃণ হোক, এই প্রত্যাশা বরাবরের মতো।













