নতুন আবাসে ১৪ দিনেও খাবার গ্রহণ করেনি ধলা পাহাড়

সারাদিন ডুবে থাকছে পানিতে

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | শুক্রবার , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চলতি বছরের পহেলা জুন খুলনার বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের আলোচিত সেই ধলা পাহাড় কুমিরটির ঠাঁই হয়েছে আবারও চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের কুমিরের বেষ্টনীতে। ২০০৪ সালে এই মাদি কুমিরকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল খুলনায়। এরপর খানজাহান আলীর মাজারের দিঘিতে ছাড়া হয়েছিল কুমিরটিকে। সেখানে নানা অঘটনের জন্ম দেয়ার পর ৪৫ বছর বয়সী কুমিরটিকে আবারও এই পার্কে পাঠানো হয়েছে।

পার্ক সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৩ আগস্ট আলোচিত এই কুমিরকে পার্কে হস্তান্তরের পর ইতোমধ্যে ১৪ দিন হলেও কোনো ধরনের খাবার গ্রহণ করেনি বা সামনে খাবার দেওয়া হলেও মুখে নেয়নি। তবে খাবার গ্রহণ না করার বিষয়টিকে একেবারেই স্বাভাবিক এবং প্রকৃতিগত কারণ হিসেবেই দেখছেন বন্যপ্রাণী চিকিৎসকসহ পার্ক কর্তৃপক্ষ। এর ব্যাখ্যা দিয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, কুমির ঠান্ডা রক্তের প্রাণী। প্রয়োজনে নিজের শরীরে জমে থাকা চর্বি থেকেও শক্তি পায়। একটি কুমির খাবার ছাড়াই তিন থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তাছাড়া এক স্থান থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের কারণে সেখানকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতেও সময় নিয়ে থাকে কুমির। আলোচিত কুমির ধলা পাহাড়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। এই অবস্থায় পার্কে প্রেরণের পর ইতোমধ্যে ১৪ দিন পার হলেও খাবার গ্রহণ না করার বিষয়টি একেবারেই প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে খাবার না খেলেও শারীরিকভাবে কুমিরটি সুস্থ রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

উল্লেখ্য যে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে ৭ বছর বয়সী একটি শিশুকে কুমিরটি টেনে নেওয়ার পর মৃত্যু হলে জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে কুকুর টেনে নেয়ারও ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ২ জুন রাতে দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ৩ জুন খুলনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে যায়। এরপর থেকে প্রাণীটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে ছিল। দুই মাসের বেশি সময় পর সেখান থেকে গত ১৩ আগস্ট আবারও কুমিরটিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রেরণ করা হয়।

সরজমিন সেই কুমিরের দেখা পেতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয় উন্মুক্ত করা বেষ্টনীতে। সেই কুমিরকে দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও দেখা মিলছে না। মানুষের কোলাহল থাকায় দিনের আলোয় সার্বক্ষণিক গভীর পানিতে ডুবে থাকছে কুমিরটি। তবে মাঝেমধ্যে অল্প সময় মাথা তুলে রোদ পোহাতেও দেখা যায়। পার্কে আগত ঈদগাঁওয়ের ছাত্র প্রতিনিধি রহিম চৌধুরীসহ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের সেই কুমিরকে দেখতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দেখা পাননি তারা।

কুমিরের বেষ্টনীর দেখভালের দায়িত্বরত কর্মী মোহাম্মদ মামুন বলেন, ধলা পাহাড় কুমিরকে পার্কে আনার ইতোমধ্যে ১৪ দিন হতে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো খাবারই মুখে নেয়নি, যদিওবা প্রতিদিন মুরগী ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল কুমিরের সামনে। তবে পার্কের নিয়ম অনুসারে প্রতি সোমবারই অন্যান্য কুমিরকে খাবার দেওয়া হয়ে থাকে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল আলম দৈনিক আজাদীকে জানান, আলোচিত কুমির ধলা পাহাড়সহ পার্কে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক ১৩টি কুমির রয়েছে। এসব কুমির মিঠাপানির আলাদা আলাদা বেষ্টনীতে রয়েছে।

পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের চিকিৎসক (ভেটেরিনারি সার্জন) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক স্থান থেকে অন্যত্র স্থানান্তর হলে একনাগাড়ে তিনমাস পর্যন্ত খাবার গ্রহণ না করাটা একেবারেই স্বাভাবিক এবং প্রকৃতিগত আচরণ। আশা করছি, এই কুমির সহসাই খাবার গ্রহণ করবে। বর্তমানে কুমিরটি বেশ সুস্থ রয়েছে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের ডিএফও আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ২০০৪ সালে এই মাদি কুমিরকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল খুলনায়। সেখানে মাজারের পুকুরে অঘটন ঘটানোর পর সেই কুমিরকে আবারও এই পার্কে পাঠানো হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মাহফিল
পরবর্তী নিবন্ধ৬৪ জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ