বাংলাদেশের রাবার খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উচ্চফলনশীল জাত সমপ্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নুরুন নাহারের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা থেকে উন্নত জাতের রাবার ক্লোন দেশে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ দেশের রাবার খাতে উন্নত জার্মপ্লাজম সংযোজন এবং ভবিষ্যতে রাবারের উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইন্টারন্যাশনাল রাবার রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (আইআরআরডিবি)-এর ১৮টি সদস্য দেশের রাবার বোর্ডের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় শ্রীলঙ্কা রাবার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য উন্নত জাতে)র রাবার বাডউড সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট শ্রীলঙ্কা থেকে পাঁচটি উন্নত জাতের মোট ৩৩টি রাবার বাডউড বাংলাদেশে পাঠানো হয়। গত ৯ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসব উন্নত জাতের বাডউড গ্রহণ করেন। চেয়ারম্যান ড. নুরুন নাহারের নেতৃত্বে গৃহীত এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে উন্নত আরআরআইএসএল ক্লোনের বংশবিস্তার এবং পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে সমপ্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের রাবার বাগানে উচ্চফলনশীল জাত সমপ্রসারণের একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৮৭টি রুটস্টকে সফল গ্রাফটিং :
শ্রীলঙ্কা থেকে আনা উন্নত বাডউড দেশে পৌঁছানোর পর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দ্রুত বংশবিস্তারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ৬৬টি রুটস্টকে সফলভাবে গ্রাফটিং সম্পন্ন করা হয়। অবশিষ্ট বাডউড ব্যবহার করে দাঁতমারা রাবার বাগান, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রামে আরও ২২১টি রুটস্টকে সফলভাবে গ্রাফটিং করা হয়। এভাবে মোট ২৮৭টি রুটস্টকে গ্রাফটিং সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রাফটিংকৃত রুটস্টকের প্রায় ৭০–৮০ শতাংশ উন্নত জাতের রাবার ক্লোনে রূপান্তরিত হবে।
গাছপ্রতি উৎপাদন ২–৩ কেজি থেকে ৫–৬ কেজিতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা :
শ্রীলঙ্কা থেকে আনা উন্নত ক্লোনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এগুলোর সম্ভাব্য উচ্চ উৎপাদনশীলতা। বর্তমানে বাংলাদেশের রাবার বাগানের গাছগুলোতে গাছপ্রতি প্রায় ২–৩ কেজি রাবার উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, শ্রীলঙ্কা থেকে আনা উন্নত জাতের ক্লোনের মাধ্যমে যে উন্নত জাত তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটি গাছ থেকে ৫–৬ কেজি পর্যন্ত রাবার উৎপাদন সম্ভব হবে। এ প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হলে একই পরিমাণ জমি থেকে অধিক রাবার উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশের রাবার খাতের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নুরুন নাহার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শ্রীলঙ্কা থেকে সংগৃহীত উন্নত জাতের এসব রাবার ক্লোনের উপর গবেষণা, গবেষণা–পরবর্তী সফল বংশবিস্তার এবং পর্যায়ক্রমে দেশের রাবার বাগানগুলোতে উন্নত জাতের ক্লোন সমপ্রসারণ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের রাবার উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে গাছপ্রতি রাবারের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় রাবারের উৎপাদন সক্ষমতা ও গুণগত মান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে উন্নত জাতের রাবার ক্লোনের সফল সমপ্রসারণের মাধ্যমে দেশে রাবারের উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।







