দেশের চা শিল্পের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন নেপচুন চা–বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার। টানা ৩ বার দেশসেরা পাতা চয়নকারী হওয়ার অনন্য হ্যাটট্রিক রেকর্ড গড়লেন ৫৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এ নারী।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রবর্তিত ‘জাতীয় চা পুরস্কার’–এর ‘শ্রেষ্ঠ চা–পাতা চয়নকারী’ (উত্তোলনকারী) ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। সাধারণত প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হলেও, এবার পুরস্কার প্রদানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় চা দিবস মে মাসে উদযাপিত হলেও এবারের জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিত হবে। সেদিনই জেসমিন আক্তারের হাতে অফিশিয়ালি এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
জাতীয় চা পুরস্কারের এই বাছাই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও স্বচ্ছ। প্রথমে সারা দেশের চা–বাগানগুলোর শ্রমিকদের কাজের বার্ষিক নথিপত্র (ডকুমেন্টারি) যাচাই করা হয়। এরপর দেশজুড়ে নির্বাচিত শীর্ষ পাতা চয়নকারীদের নিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি চা বাগানে ৩০ মিনিটের এক চূড়ান্ত লাইভ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চূড়ান্ত পর্বের মাত্র ৩০ মিনিটের এই লড়াইয়ে জেসমিন আক্তার রেকর্ড ১৩ কেজি চা পাতা তুলে প্রথম স্থান অধিকার করেন। যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তুলেছিলেন সাড়ে ৯ কেজি পাতা। এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে কেন তিনি টানা তিনবার দেশ সেরা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে তিনি বাগান থেকে মোট ২৫,৬২১ কেজি চা পাতা চয়ন করে সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
২০২৩ সালে ২৫,২১৭ কেজি চা পাতা তুলে প্রথমবার দেশসেরা হন। এরপর ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪,৯৩৭ কেজি চা পাতা উত্তোলন করে দ্বিতীয়বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। ২০২৫ সালে ২৫,৬২১ কেজি চা পাতা চয়ন করেন এবং চূড়ান্ত মাঠ প্রতিযোগিতায় হ্যাটট্রিক জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে কুমিল্লা থেকে ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানে এসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর স্বামীর হাত ধরেই এই কাজ শুরু করেছিলেন জেসমিন। দীর্ঘ ৪২ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠাই আজ তাকে দেশের ১৬৮টি চা বাগানের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের মাঝে সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পুরস্কারের ঘোষণা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেসমিন আক্তার বলেন, দেশের সব চা শ্রমিকদের মধ্যে টানা ৩ বার শ্রেষ্ঠ পাতা চয়নকারী হতে পারাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর আগে আমারই বাগানের উপলক্ষি ত্রিপুরা আপা এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। আমাদের বাগানের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আগামী ২০ জুন পুরস্কার হাতে পাওয়ার মুহূর্তটির জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
শ্রেষ্ঠ চা–পাতা চয়নকারী (উত্তোলনকারী) ক্যাটাগরিতে এ পর্যন্ত চারবার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলার এম এম ইস্পাহানি গ্রুপের মালিকানাধীন নেপচুন চা–বাগানের শ্রমিকরা চারবারের প্রতিবারই অর্জন করেছেন এ পুরস্কার। প্রথমবার এই শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছিলেন নেপচুন চা–বাগানের শ্রমিক উপলক্ষি ত্রিপুরা।
নেপচুন চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এটি পুরো ইস্পাহানি পরিবার তথা ফটিকছড়ির জন্য এক বিশাল ও ঐতিহাসিক আনন্দ।












