তিস্তা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

| বৃহস্পতিবার , ২১ মে, ২০২৬ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বিএনপি সরকারই পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই বিএনপি সরকারই পদ্মা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে, ইনশাল্লাহ তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর নেতৃত্বেই তিস্তা নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তাই কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, সেটা বিএনপিই করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন, কয়েকদিন আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের উত্তর অঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চলে বিশেষ করে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পদ্মা ব্যারাজ তৈরি করবো। সীমান্তের ওপারে ব্যারাজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু খরা মৌসুমে আমরা পানি কম পাচ্ছি। এই ব্যারাজটি আমরা এই জন্য করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষায় বলুন বা খরা মৌসুম বলুন, আমাদের দেশের মানুষ বা কৃষক যেন ঠিক সময়ে পানি পায়। খবর বাসসের।

তিনি বলেন, আরেকটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে ফারাক্কা বাদ হওয়ার কারণে সমুদ্রের পানি দক্ষিণ অঞ্চলে ঢুকছে। এতে সুন্দরবনসহ ওই সকল অঞ্চলে লবণাক্ত পানি বেশি পরিমাণে চলে আসায় বিভিন্ন গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের ব্যারাজটা নির্মাণ করতে হবে এবং ব্যারেজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখবো। বর্ষার বাড়তি পানি আমরা ধরে রাখবো। খরা মৌসুমে সেটি কাজে লাগবে। আবহাওয়া চেঞ্জ হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এখন জানুয়ারি মাসেও শীত কম পড়ে। আমার পরিষ্কার মনে আছে, আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন ২৬ মার্চে স্কুলে প্রোগ্রাম হতো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। প্রোগ্রামে যখন রিহার্সেল দিতাম স্কুলে, সেই সময় কিন্তু সোয়েটার পরে থাকতাম।

তিনি বলেন, কঙবাজারের রোহিঙ্গারা যেখানে থাকে খুব সম্ভব সেই জায়গাটা দেখিয়েছে ভিডিওতে। সেখানে প্রায় ১৩ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা আছে। টেকনাফের দিকে আমি গিয়েছিলাম ২০০৫০৬ এর দিকে। তখন দেখেছিলাম সেই জায়গাগুলো গাছে ভরা। সেখানে এখন রোহিঙ্গাদের বাসস্থান তৈরি করা। অর্থাৎ হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম কঙবাজার থেকে বিচের পাশ দিয়ে একদম উখিয়া পর্যন্ত একটা রাস্তা করা হচ্ছে। রোডের ডিজাইনের কারণে প্রায় তিন হাজার গাছ কেটে ফেলতে হবে। তা দেখার পর এই রাস্তার দায়িত্বে যেই মন্ত্রী আছেন তাকে ফোন করে নিউজটা পাঠালাম। তাকে বলে দিলাম ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে গাছ না কেটে কাজ করতে।

তিনি বলেন, আবার গুলশান এলাকায়, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ছোটবেলায় দেখেছি মাটির ২০২৫ ফিট গেলেই পানি বের হতো। এখন শুনেছি সেখানে পানি পেতে মাটির প্রায় ৬০০৭০০ ফিট গভীরে যেতে হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ২০ কোটি লোকের ফসল উৎপাদনের জন্য আমাদের কৃষকরা গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি টেনে তুলছে। ফলে নিচে থেকে আস্তে আস্তে পানি শূন্য হয়ে যাচ্ছে। খুব স্বাভাবিক নিচটা যখন শূন্য হবে উপর থেকে সেটি ধসে পড়বে।

তাই আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করেছি, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি আলহামদুলিল্লাহ এবং আমরা আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খনন কর্মসূচির সাথে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই খাল খননের সাথে কৃষি জড়িত। তাই যেভাবেই হোক আমাদেরকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আমরা বন্ধ করতে পারবো না, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আমরা দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পারি। আজকে এই অনুষ্ঠানের একটি শপথ হওয়া উচিত, আমরা শুধু মানুষকে সচেতনই করবো না নিজেরাও সচেতন হবো। এর আগে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। সমাবেশের শুরুতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর নির্মিত ভিডিও তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) . এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬