‘জুলাইয়ের গণহত্যা, খুন, গুম ও সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব’ বলে দাবি করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম মহানগর নেতৃবৃন্দ। তারা অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার ‘জুলাইয়ের গণহত্যা, খুন, গুমসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি’তে চট্টগ্রাম মহানগরী ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বের হয় গণমিছিল। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
গণমিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘এগিয়ে চলো, ভয় কিসের, সনদ হবে বাস্তবায়ন মোদের’, ‘শহীদের রক্তে রঞ্জিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ সহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ সময় তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যা, খুন ও গুমের বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর আগে সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা, খুন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের রায় ও গণভোটের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। তিনি বলেন, দেশের জনগণ ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো টেকসই রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়। সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।
১১ দলীয় চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিসের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তফা কামাল, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ ইকবাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা নুর মোহাম্মদ কিবরিয়া, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুওয়ানুল ওয়াহেদ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা মুবিনুল হক, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আবু সাঈদ, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ওপেল, নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা আবু তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা জাহেদুল হাসান, নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, আমীর হোসাইন, ফারুকে আজম ও আহমদ খালেদুল আনোয়ার।












