বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন, তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গতকাল রোববার দুপুরে পরিবারের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে তার জামাতা আনোয়ারুল হাসান জানান। তিনি বলেন, খাবার নিতে গিয়ে স্যারের মুখে আটকে যায়। ওই হোটেলের উপরে একটা মেডিকেল ছিল, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ডাক্তার দেখার পর বললেন তিনি আর নেই। এটা বেলা সোয়া ৩টার দিকের ঘটনা। আমরা উনাকে পল্লবীর বাসায় নিয়ে এসেছি। খবর বিডিনিউজের।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা হবে আজ দুপুরে। তার মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শুচিতা শারমিন বলেন, আগামীকাল (আজ) দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে উনার জানাজা হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টায় বাংলা একাডেমিতে রাখা হবে কফিন। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং পরে লাশ নিয়ে আসা হবে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। দাফনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ইচ্ছে আছে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার। এখানে অনুমতি নেওয়ার বিষয় আছে। আমরা চেষ্টা করছি। এখনো জানা যায়নি।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তার দীর্ঘ দিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এবং বাংলা একাডেমি শোক প্রকাশ করেছে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক জীবনের চার দশক অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক তিনি।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। পরে বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তার লেখা ২১টির মতো বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মুক্তিসংগ্রাম, কালের যাত্রার ধ্বনি, নৈতিকতা : শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি, যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা, মাও সেতুঙের জ্ঞানতত্ত্ব, রাজনীতি ও দর্শন, বাঙলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা, উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য, সংস্কৃতির সহজ কথা, বার্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত রাজনৈতিক আদর্শ ইত্যাদি।
১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান এই লেখক। তার দুই সন্তানের মধ্যে শুচিতা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ঢাকার শাহবাগে প্রকাশনা সংস্থাটির কার্যালয়ে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর তাকে হত্যা করে জঙ্গিরা।











