বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যায়িত করে সে সরকারের সময় শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর ও বিপর্যস্ত করে তোলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। যখন আমরা দেখি আমাদের সামনে এত বিশাল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, তখন আমাদের মনোবল আরো বৃদ্ধি পায়।
গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা ইনশাল্লাহ অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবো এবার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ অর্জন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে চাইলে আমাদেরকে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ে তুলতে হবে নিশ্চয়ই। শিক্ষা–দীক্ষায়, জ্ঞান–বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখতে না পারলে আমি মনে করি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে। খবর বিডিনিউজের।
দেশে ‘কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। সরকারপ্রধান বলেন, শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জাতীয় উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি একটি সম্মিলিত যাত্রা। এই যাত্রায় বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর সকলের সহযোগিতা আশা করে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে আমাদের যে অগ্রযাত্রা আমরা প্রত্যাশা করি সেই অগ্রযাত্রাকে কেউ ইনশাআল্লাহ রুদ্ধ করতে পারবে না।
তিনি এমন একটি কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন, যেখানে শুধু সনদ দেবে না, দেশে দক্ষ মানবসম্পদও সৃষ্টি করবে, জনসংখ্যাকে জন সম্পদে রূপান্তর করবে। শুধু চাকরিজীবী নয় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করবে, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয় সামাজিক রূপান্তরেরও ভিত্তি নির্মাণ করবে। শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয় জাতীয় সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত করবে।










