রমজান ঘিরে নগরীর ইফতার বাজারে জমেছে কেনাকাটা, আর নানা স্বাদের শতাধিক পদ নিয়ে রোজাদারদের বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বারকোড রেস্টুরেন্ট। ঐতিহ্যবাহী দেশি ইফতারি থেকে আন্তর্জাতিক খাবার, কাবাব–বিরিয়ানি, মেজবান, ডেজার্ট ও পানীয়–সব মিলিয়ে এক ছাদের নিচে বড় আয়োজন থাকায় প্রতিদিন বিকেল থেকেই দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড়। সাশ্রয়ী দামে ছোট আইটেম থেকে শুরু করে পারিবারিক প্ল্যাটার পর্যন্ত থাকায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এখানে ভিড় করছেন।
রেস্টুরেন্ট সূত্র জানায়, এবারের আয়োজনে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে ঐতিহ্যবাহী বাংলা ইফতার সামগ্রীতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, সমুচা, সিঙ্গারা, চনাবুট, পাকোড়া, মুড়িসহ পরিচিত আইটেমগুলো স্বল্প দামে বিক্রি হচ্ছে, যা দ্রুতই ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
ফাস্টফুড ও রেস্টুরেন্ট আইটেমেও রাখা হয়েছে বড় পরিসর। চিকেন শাসলিক, কাটলেট, বারবিকিউ ড্রামস্টিক, ক্রিসপি উইংস, শর্মা, মিনি পিজ্জা, পাস্তা ও স্যান্ডউইচসহ জনপ্রিয় পদ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি পুরো চিকেন বারবিকিউসহ বিভিন্ন স্পেশাল আইটেমও রয়েছে।
কাবাব বিভাগে তন্দুরি চিকেন, টেংরি কাবাব, চিকেন টিক্কা, বিফ শিক কাবাব, হরিয়ালি ও মালাই কাবাব, তাওয়া ফিশ কাবাবসহ নানা পদ রাখা হয়েছে। কারি আইটেমে চিকেন বাটার মাসালা, কড়াই চিকেন, ঝাল ফ্রাই এবং বিরিয়ানির মধ্যে বিফ ও মাটন বিরিয়ানি পাওয়া যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক খাবারের তালিকায় রয়েছে আরবিয়ান শর্মা, হাম্মুস, ফালাফেল, গ্রিলড চিকেন, জাপানিজ ইয়াকিতোরি ও টেম্পুরা, কোরিয়ান ফ্রাইড চিকেন এবং চাইনিজ স্প্রিং রোল, ওয়ানটন ও নুডলস। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেজবানি গরুর মাংস, চনার ডাল ও বিভিন্ন ধরনের হালিমও রাখা হয়েছে।
ডেজার্ট বিভাগে রেশমি জিলাপি, মিহিদানা, গাজরের ও দুধি হালুয়া, ফিরনি, জর্দা, কুনাফা, মিষ্টি দই, পিঠা ও পুডিংসহ বিস্তৃত আয়োজন রয়েছে। পানীয় হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে মিন্ট লেমন, লেমোনেড, লাচ্ছি, মিল্কশেক ও বিভিন্ন ফলের জুস।
রেস্টুরেন্টের চেয়ারম্যান মনজুরুল হক বলেন, রমজানে মানুষ যেন এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব ইফতারি নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা মেন্যু সাজিয়েছি। খাবারের মান ঠিক রেখে যতটা সম্ভব দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করেছি। প্রতিদিনই ভালো সাড়া পাচ্ছি, আর ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, অবিক্রিত খাবার নষ্ট না করে তা অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রোজাদারদের চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত কর্মী, আলাদা টেকঅ্যাওয়ে কাউন্টার, দ্রুত বিলিং ও পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইফতার কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, একই জায়গায় কম দামে ছোট আইটেম থেকে শুরু করে পরিবারের জন্য বড় খাবার পাওয়া যাওয়ায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। নগরীর এক ক্রেতা বলেন, এখানে দামের ভেতরে অনেক অপশন আছে। বিশেষ করে ছোট ছোট আইটেমগুলো নেওয়া সহজ, আবার চাইলে বড় প্ল্যাটারও পাওয়া যায়। আরেকজন জানান, ভিড় থাকলেও সার্ভিস দ্রুত, তাই সময় বাঁচছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানজুড়ে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ইফতার বাজার চালু থাকবে এবং ক্রেতারা সরাসরি এসে পছন্দমতো খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন। বৈচিত্র্যময় মেন্যু ও সেবার মান ধরে রেখে পুরো মাসজুড়ে এই আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার আশা তাদের।












