আধুনিকতার কাছে হারিয়ে যাচ্ছে জীবন্ত অনুভূতি

জাহিদ তানছির | শনিবার , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আমরা এখন ‘কানেক্টেড‘ কিন্তু মোটেও ‘সংযুক্ত‘ নই। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা হাজার মাইল দূরের মানুষের সাথে চ্যাট করছি, অথচ পাশের ফ্ল্যাটের মানুষটির নামও জানি না। সামাজিকতা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন আর কেবল আক্ষেপ নয়, বরং একটি রূঢ় বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগেও বিকেলে পাড়ার মোড়ে বা ড্রয়িংরুমে আড্ডা হতো। এখন সেই জায়গা দখল করেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক। মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলার চেয়ে আমরা স্ক্রিনে স্ক্রল করাকে বেশি আরামদায়ক মনে করি। অনেকটা ‘ডিজিটাল আইসোলেশন‘ এর মত। ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতা যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হওয়ার ফলে আমাদের মধ্যে “আমি এবং আমার জগৎ” ভাবনাটা প্রবল হচ্ছে। অন্যের বিপদে এগিয়ে আসা বা সামাজিক উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার সেই চিরাচরিত আগ্রহে ভাটা পড়েছে। যান্ত্রিক জীবন ও প্রতিযোগিতায় আমাদের শহুরে জীবনে সময়ের প্রচণ্ড অভাব। ইঁদুর দৌড়ের এই যুগে মানুষ এতটাই ক্লান্ত থাকে যে, অবসর সময়টুকু সে একা কাটাতে চায়। সামাজিকতা রক্ষা করাকে অনেকে এখন ‘অতিরিক্ত ধকল‘ হিসেবে দেখেন। আগে মানুষের মধ্যে মতের অমিল থাকলেও হৃদ্যতা ছিল। এখন সামান্য রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের কারণে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। ভার্চুয়াল জগতে ‘ব্লক‘ বা ‘আনফ্রেন্ড‘ করার সংস্কৃতি আমাদের ধৈর্য কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ঘটছে একাকীত্ব ও বিষণ্নতা। মানুষের সাথে মেলামেশা কমলে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। বিপদে প্রতিবেশীকে না পাওয়ার ফলে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে যা সহমর্মিতার সংকটে রূপ নিচ্ছে। নতুন প্রজন্ম মাঠে খেলাধুলা বা মানুষের সাথে মেশার সুযোগ না পাওয়ায় তাদের সামাজিক দক্ষতা তৈরি হচ্ছে না। যার কারণে মানুষের পারস্পরিক জীবন্ত অনুভূতিগুলোর রেশ থাকছে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএসি দত্ত লেইনে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন চাই
পরবর্তী নিবন্ধনগরবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা প্রত্যাশী