বয়স তার মাত্র ২১ বছর। এরই মধ্যে ১২ জনের একটি ছিনতাই গ্রুপ পরিচালনা করে মেহেরাজ নামের এই তরুণ। গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে স্টেশন রোড ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মুন্না পালিয়ে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৩টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী সিআরবি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বোরহান উদ্দিন আজাদীকে জানান, মেহেরাজকে গ্রেপ্তারের পর ছাড়িয়ে নিতে অসংখ্য তদ্বির আসে। এমন একজন চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড়িয়ে নিতে এতো তদ্বির দেখে আমরা বিস্মিত!
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর আজাদীকে বলেন, রাতে টহল ডিউটি করার সময় স্টেশন রোড ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে মেহেরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মেহেরাজ জানায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চুরি এবং ছিনতাই যাওয়া মোবাইলগুলো স্বল্প দামে চোরদের কাছ থেকে কিনে বেশি দামে বিক্রির জন্য ওই জায়গায় অবস্থান করছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
এসআই বোরহান জানান, মেহেরাজের বাবা নাসিরও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। কিছুদিন আগে জেল থেকে বের হয়েছে। তার ছেলে মেহেরাজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার পরিবার অবহিত। গত তিন মাসে কমপক্ষে দুইশ মোবাইল ছিনতাই করেছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, মেহেরাজের নেতৃত্বাধীন চক্রটি প্রতিদিন কাজ করে না। একদিন ৫/৬ টি মোবাইল হাতিয়ে নিয়ে কদিন চুপ থাকে। মোবাইল বিক্রির টাকায় ইয়াবা খায়, আয়েশ করে। টাকা শেষ হলে আবারও কাজে নেমে পড়ে। গত এক বছর ধরে সে এভাবেই লালখানবাজার ইস্পাহানির মোড় থেকে টাইগারপাস হয়ে বিআরটিসি পর্যন্ত মোবাইল ছিনতাইয়ে নেতৃত্ব দেয় বলে জানান তিনি। পুলিশের তথ্য মতে মেহেরাজ এই বয়সেই পুলিশের নজর এড়াতে দারুণ কৌশলী! যেমন সে কোনো ডিভাইস ব্যবহার করে না। যাতে পুলিশ তার টিকি ছুঁতে না পারে। তার বাসা মূলত আমবাগান এলাকায়। কিন্তু সে বাসায় থাকে কম, আমবাগান ছাড়াও পুলিশ তার আরও চারটা আস্তানার তথ্য পেয়েছে। এসআই বোরহান জানান, ডবলমুরিং থানাধীন গায়েবি মসজিদ এলাকা, গোয়ালপাড়া, ২নং গেইট এলাকা এবং বায়েজিদে তার আস্তানার তথ্য পেয়েছি আমরা। ধরা পড়ার দুই দিন আগে অর্থাৎ গত ২২ জুলাই মেহেরাজ ও তার গ্রুপ ঢাকা থেকে কদমতলীতে নামা যাত্রীদের থেকে তিনটি মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। গত ১২ জুলাই এক তরুণ কুমিল্লা থেকে আগ্রাবাদ খালার বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। বিআরটিসি মোড়ে তাকে আটকায় মেহেরাজের ছেলেরা। সে মোবাইল দিতে না চাইলে তাকে মারতে মারতে বয়লার কলোনিতে ঢুকিয়ে দুইটা মোবাইল ও টাকাপয়সা কেড়ে নেয়। খবর পেয়ে সেখান থেকে ছেলেটাকে আমরা উদ্ধার করলেও মেহেরাজ ও তার গ্রুপের ছেলেরা উধাও হয়ে যায়। দেড় মাস আগে দুপুরে সিআরবিতে ঘুরতে আসা স্কুল শিক্ষার্থীদের মারধর করে তারা সাতটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।












