হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত পর্যালোচনা করছে : রণধীর জয়সওয়াল

| শনিবার , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর যে অনুরোধ ঢাকা জানিয়েছে, তা ‘আইনি ও বিচারিক পন্থায়’ পর্যালোচনা করার কথা বলেছে দিল্লি। গতকাল শুক্রবার নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা এএনআই লিখেছে, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার এক জটিল প্রক্রিয়ার মাঝে ভারত সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরলেন মুখপাত্র।

এমন এক সময়ে দিল্লির এই বক্তব্য এল, যখন আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর তলানিতে পৌঁছানো বাংলাদেশভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরাতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার কথা বলছে ভারতের নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সমপ্রতি নয়া দিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি আবারো তোলেন।

এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, চলমান বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে (বাংলাদেশের) অনুরোধটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব। আমরা পরিস্থিতির ওপর খুব নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। খবর বিডিনিউজের।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সে বছর ডিসেম্বরে হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে অন্তর্বর্তী সরকার চিঠি পাঠায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মামলার বিচারকাজের শুরুতে। এরপর গত নভেম্বরে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকার ভারতকে আবার চিঠি পাঠায়। তবে কোনো চিঠির জবাব দেয়নি দিল্লি।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে দিল্লি থেকে কোনো জবাব না পাওয়ার মধ্যে আবারও অনুরোধ জানায় বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকার। গেল ৭ এপ্রিল দিল্লি সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠকে তাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়টি পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনা এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারতের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

সে সফরে খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিংহ পুরির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার ১০ দিনের মাথায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধের বিষয়ে ভারতের তরফে এই বক্তব্য এল।

এএনআই লিখেছে, ২০২৫ সালে ভারত প্রথম শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছিল, যা এখন দেশটির বিচারিক কাঠামোর মধ্যে কঠোর মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়াটি ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি কার্যপদ্ধতি দ্বারা সীমাবদ্ধ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশেখেরখীলে টমটমের ধাক্কায় যুবক নিহত
পরবর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে বনায়নের অভাবে বিপন্ন বন্যপ্রাণী