রামিসা হত্যার রায় ৭ জুন

আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ সাজা চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

| শুক্রবার , ৫ জুন, ২০২৬ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় জানা যাবে আগামী ৭ জুন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ের এই দিন ঠিক করে দেন। খবর বিডিনিউজের।

যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানিয়েছে। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তাদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেছেন।

স্বপ্নাকে সকাল ৮টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে এবং সোহেলকে ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় যুক্তিতর্ক শুনানি শুরুর কথা থাকলেও স্বপ্না অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুনানি শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বেলা সাড়ে ১১টার পর আসামিদের এজলাসে তোলা হয়। পৌনে ১২টার দিকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রতাশা করেন তিনি।

সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে তিনি আদালতকে বলেন, আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন। পরে গ্রিল কেটে তিনি পালিয়ে যান। এসব কাজে আসামি স্বপ্না আক্তার সহযোগিতা করেছে। বিচারে ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করছি।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি বলেন, জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেটার ফরেনসিক পরীক্ষা হয়নি। এর ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া যেতে পারে না। আসামি সোহেল রানা নিজেকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। এ বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে তার যাবজ্জীবন সাজা প্রার্থনা করছি। এ আইনজীবী বলেন, স্বপ্না আক্তারের বিষয়ে ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া সাক্ষ্যে লাশ গুমের অভিযোগ ছাড়া কিছুই নেই। তাকে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাজা দেওয়া হোক।

বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আসামি স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। আর সোহেল ক্ষমা চেয়ে বিচারককে বলেন, স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সাথে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখে নাই। তাকে ধরেন স্যার। সেও তো দোষী। সোহেলের দাবি, তিনি রামিসাকে কেবল দুই টুকরো করেছেন। আর মেয়েটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ডলার নামের ওই ব্যক্তি। মেয়েটিকে এনে দেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকাও দিয়েছিলেন ডলার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের আগের মূল্য বহাল
পরবর্তী নিবন্ধজনির কাছে ছিল ৩২টি সরকারি সিল