নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় মামলা নেয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করবো আমাদের পক্ষ থেকে যে মামলা নিয়ে থানায় যাওয়া হয়েছে সে মামলা আপনারা গ্রহণ করবেন। সবাইকে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে হবে। বিএনপি অফিসে হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিবাদ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।
ডা. শাহাদাত বলেন, সন্ত্রাসীরা যখন লালখান বাজার থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপির অফিসের দিকে হামলা করতে আসছিল, তখন পুলিশও তাদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য এসেছিল। কিন্তু এত বড় কোতোয়ালী থানার পুলিশ থাকতে এই সামান্য সন্ত্রাসীদের রুখতে পারলেন না? ভিডিও ফুটেজে দেখেছি পুলিশকে তারা ধাক্কা দিয়ে ফেলে বিএনপি অফিসে ঢুকে সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। আগুন লাগিয়ে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে। সেদিন এই সন্ত্রাসীদের সামনে পুলিশের অসহায়ত্ব আমরা দেখেছি। অপরাধী যেই হোক না কেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করা আপনাদের দায়িত্ব ছিল।
এসময় পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে কাজ করেন। উপরের নির্দেশ শুনবেন না। সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আপনাদের তো সময় আছে। আপনাদেরকে তো চাকুরি করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আপনারা ভালোভাবে চাকরি করতে পারবেন।
তিনি বলেন, বুধবারের পদযাত্রা কর্মসূচিতে চট্টগ্রামবাসী দেখিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম বিএনপির ঘাঁটি। সেদিন লক্ষ লক্ষ জনতার জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এটা আওয়ামী লীগের সহ্য হয়নি। তাই তারা চট্টগ্রামকে অশান্ত করার জন্য বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে। বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না।
এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মামলা দায়েরের ঘটনা নিত্য ঘটছে। কিন্তু হামলা মামলার মাধ্যমে বিএনপিকে ধমিয়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না।
আবুল হাসেম বক্কর বলেন, আমরা যখন অফিসে ছিলাম না তখন এসে চোরের মত হামলা করে চলে গেছে। এই ঘটনায় আমাদের পক্ষ থেকে করা মামলা না নিয়ে উল্টো আওয়ামী লীগ এবং পুলিশ বাদী হয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিএনপির নেতা কর্মীরা এখন মামলাকে ভয় করে না।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এড. আবদুস সাত্তার, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, নুর মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন জিয়া, এস এম আবুল ফয়েজ, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আবুল হাশেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, নুরুল্লাহ বাহার, মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী।














