সিআরবিতে গাছ কেটে কোনো হাসপাতাল করতে দেওয়া হবে না : মেয়র

খাল-নালা পরিষ্কার কর্মসূচি উদ্বোধন

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রেল মন্ত্রীকে বলেছেন, ‘সিআরবি’তে গাছ কেটে কোনো হাসপাতাল করতে দেয়া হবে না’। সাংবাদিকদের এ তথ্য নিজেই জানিয়েছেন মেয়র। গতকাল রোববার সকালে নগরের জামালখান লিচু বাগান এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) খালনালা পরিষ্কার কর্মসূচি উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শাহাদাত বলেন, ‘আমি গতকাল মন্ত্রী (রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম) মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনাকে আমি বলেছিলাম যে, গাছ কেটে সিআরবিতে কখনো কোনো হসপিটাল কিংবা স্থাপনা আমরা করতে দেব না এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নেবে না। উনিও (মন্ত্রী) এ ব্যাপারে একমত। উনি (মন্ত্রী) বলেছেন, পুরোনো যে হসপিটালটা আছে, সে হসপিটালটা উনি দেখবেন। ওই হসপিটালটার ইনফ্রাস্ট্রাকচার (অবকাঠামো), ওইখানে দরকার হলে ওটা ভেঙে কিভাবে একটা সুন্দর হসপিটাল করা যায়, এটাও আমাদের সময়ের দাবি। যেহেতু এই হসপিটালটাতে আসলে রোগী আসে না।’

তিনি বলেন, এখানে আমরা ডেন্টাল কলেজের কথা বলেছি ইতোমধ্যে। একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল হসপিটাল এবং কলেজের কথা বলেছি। কাজেই ওই জায়গায় আমরা হয়তোবা আশা করতে পারি, পুরোনো বিল্ডিংয়ে, কিন্তু নতুন কোনো স্থাপনা সেখানে হবে না।

জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ : খালনালা পরিষ্কারের মাধ্যমে গত বছর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে এসেছে দাবি করে মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবার সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করতে পারলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হবে।

কর্মসূচি প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছরের ন্যায় এবারও ১৬শ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কার কর্মসূচি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছি। এই ১৬শ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কার করতে পারলে বর্ষার সময় পানি ড্রেন হয়ে খালের মাধ্যমে নদীতে চলে যাবে। খাল সংস্কারেরও পরিকল্পনা আছে আমাদের। সেটাও শুরু করছি। নালা ও খাল একসাথে ক্লিন করব।

তিনি বলেন, নালা পরিষ্কারের পর মাটি পাশে ফেলে না রেখে দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ষাকালে দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ নালা ও ম্যানহোলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী বেষ্টনী স্থাপন করা হবে।

এসময় জনসচেতনতার ওপর জোর দেন মেয়র। বলেন, নগরবাসীর অসচেতনভাবে ময়লাআবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, শহরকে নিজের ভাবুন। যত্রতত্র ময়লা ফেলবেন না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা ফেলুন।

এসময় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অবৈধ পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকে জরিমানা ও দৃশ্যমান শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

মেয়র নগর সরকার ব্যবস্থা চালু না হলে পরিকল্পিত নগরায়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে এ বিষয়ে তিনি সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। নগর সরকার হলে সব সেবা প্রদানকারী সংস্থা এক ছাতার নিচে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, জলাবদ্ধতা বিষয়ক গবেষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান হোছাইন খোকা ও উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাস ভাড়া বাড়ানোর বৈঠকে ফল আসেনি, সিদ্ধান্ত দেবে মন্ত্রণালয়
পরবর্তী নিবন্ধসিআরবিতে হাসপাতাল নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার