চট্টগ্রাম থেকে চলতি হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইটে ৩৭১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একই ফ্লাইটে ঢাকা থেকে ৪১ জন হজযাত্রী এবং দুইজন সাধারণ যাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দা গেছেন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি–১৩৫ ফ্লাইটটি হজযাত্রীদের নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। চট্টগ্রামের প্রথম হজফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর। এ সময় বিমানবন্দরের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস স্টেশন ম্যানেজারসহ কর্মকর্তাবৃন্দ, হাব চট্টগ্রাম চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরীয়ত উল্লাহ এবং আটাবের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক আল মামুন ফারুক। প্রধান অতিথি মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সবার আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থকে সর্বদা সমুন্নত রেখে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, আপনারা সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে গিয়ে নিজেদের পরিবার ও দেশবাসীর জন্য দোয়া করবেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ যাতে বন্ধ হয় এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরে আসে, সেই প্রার্থনা করবেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি সমপ্রীতির, বৈষম্যহীন এবং উন্নত–সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ার যে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি, তা যেন সফল হয়–সেজন্য আপনারা বিশেষ মোনাজাত করবেন।
প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চলতি মৌসুমে হজযাত্রী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি হজযাত্রীদের ব্যাপারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বিমানবন্দর টার্মিনালের প্রয়োজনীয় সমপ্রসারণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক আগ্রহের কথা জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর জানান, এ বছর হজযাত্রীদের যাত্রাকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের হজ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটি সম্মানিত হাজীদের অত্র বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে বিমানে আরোহণ পর্যন্ত সকল ধাপে সরাসরি তদারকি করবেন। কমিটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ অন্যান্য অংশীজনদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে হাজীদের জন্য সার্বিক সেবা প্রদান করবেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ঢাকার ন্যায় কোন হজক্যাম্প না থাকায় বিমানবন্দরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে হাজীদের জন্য বসার সুব্যবস্থা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অসুস্থ হাজীদের চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক হাজীদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ৪১৯ জন হজযাত্রীর মাঝে আতর, তসবিহসহ হজ পালনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তিনি বিমানে আরোহণকৃত হাজীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সকলে যেন পবিত্র হজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে সুস্থতার সাথে দেশে প্রত্যাবর্তন করে সেজন্য বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন।
সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর চট্টগ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। তাদের পরিবহনে ১৯ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত মোট ১৬টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ১২টি ফ্লাইট সরাসরি জেদ্দা এবং চারটি ফ্লাইট মদিনায় যাবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে, ২৪ এপ্রিল দুপুর ১টা ২০ মিনিটে, ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে, ১ মে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে, ২ মে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে, ৫ মে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে, ৮ মে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে, ১০ মে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে, ১২ মে সন্ধ্যা ৭টায়, ১৩ মে বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে, ১৪ মে সন্ধ্যা ৭টায়, ১৫ মে সন্ধ্যা ৭টায়, ১৭ মে সন্ধ্যা ৭টায় এবং ২০ মে বিকাল ২টায় পরবর্তী ফ্লাইটগুলো চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাবে।














