দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রেখে পে–স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের চ্যালেঞ্জ। বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এই অতিরিক্ত ব্যয় যেন সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ না বাড়ায়, সেদিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাজারে গিয়েই ভুক্তভোগীরা মন খারাপ করছেন। কারণ দেশে দফায় দফায় বেড়েই চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। মাছ, গোশত, ডাল, তেল, চিনি ও ডিমের দামতো বাড়তি। বাসায় রান্না করার জন্য প্রয়োজনীয় এলপি গ্যাসের দামও বেড়েছে। এসবের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। উদাসীন বাজারব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দিন দিন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকলেও বাড়ছে না সাধারণ কর্মচারীদের বেতন ভাতা। যার ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর বর্তমান পে স্কেলে খুশির বার্তা থাকলেও সাধারণ জনগণের মাঝে আবারও অস্থিরতার ডাক পড়ার আশঙ্কা। বাড়তি পণ্যের দাম যদি আরও বাড়তি করার উদ্যােগ নেওয়া হয় তবে পরিবার চালাতে দায় হয়ে পড়বে। আপামর জনসাধারণের দিকে তাকিয়ে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ১৬ কোটি জনসাধারণের মধ্যে মাত্র ২২ কী ২৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা— কর্মচারী। তাই এই বাংলাদেশে ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর একটাই চাওয়া ডাল ভাত খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করা। আর মূল্যস্ফীতি এবং পে–স্কেল একটি চক্রাকার অর্থনৈতিক সম্পর্কে আবদ্ধ। মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, যা সামঞ্জস্য করতে সরকার পে–স্কেল বা বেতন কাঠামো বৃদ্ধি করে, আবার পে–স্কেল বৃদ্ধি পেলে বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়ে, যা সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। পে–স্কেল বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরাও সুযোগ বুঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যাতে বাড়ানোর সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহোদয়কেই সুদৃষ্টি দিতে হবে।












