শ্যামল স্টোরের ম্যানেজার ইউটনের সাক্ষ্য ও জেরা রেকর্ড

জামালখানে শিশু বর্ষাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলা

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীর জামালখানে শিশু বর্ষাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সেই শ্যামল স্টোরের ম্যানেজার ইউটন সাক্ষ্য দিয়েছে। পাশাপাশি আসামিপক্ষে তাকে জেরাও করা হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের (মহানগর) বিচারক সৈয়দা হাফসা জুমার আদালত এ সাক্ষ্য ও জেরা রেকর্ড করেন। সাক্ষ্য ও জেরায় ইউটন জানান, অভিযুক্ত লক্ষণ দাশ শ্যামল স্টোরের কর্মচারী এবং শিশু বর্ষাকে শ্যামল স্টোরের যে গোডাউনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুন করা হয়, সেখানেই সে রাত্রিযাপন করতো। গোডাউনের চাবিও থাকতো তার কাছে।

বর্ষার পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানকারী মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ) চট্টগ্রামের সভাপতি আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারক। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকালে নগরের জামালখানের সিকদার হোটেলের পাশের গলির ভেতরে একটি মুদি দোকানের গুদামে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয় ৭ বছরের শিশু বর্ষা। সেদিন অভিযুক্ত লক্ষণ দাশ শুধু যৌন কামনা চরিতাথর্ই করেনি, কান্নারত শিশু বর্ষার নাকমুখ, হাত চেপে ধরে মৃত্যুও নিশ্চিত করেছিল। মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে পেঁয়াজের একটি বস্তায় বর্ষার লাশ ঢুকিয়ে পাশের নালায় ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তিন দিন পর সিকদার হোটেলের পাশের নালা থেকে বস্তাবন্দি বর্ষার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তদন্তে নামে। নানা তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে। একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজে ধরা পড়ে লক্ষণ দাশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে প্রেরণ করা হলে সে বর্ষাকে ধর্ষণ, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা, এমনকি বস্তায় ভরে লাশ নালায় ফেলার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। প্রথম দিকে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হলেও লাশ উদ্ধারের পরে বর্ষার মা ঝর্ণা বেগম বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্ষাকে ধর্ষণ, শ্বাসরোধ করে খুন ও প্রমাণ গায়েবের মামলাটির তদন্ত শেষে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এতে লক্ষণ দাশকে একমাত্র আসামি করা হয়। শিকদার হোটেলের পাশের শ্যামল স্টোরের কর্মচারী লক্ষণ দাশ স্টোরটির গুদামে শিশু বর্ষাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। চিপসসহ নানা কিছু কেনার জন্য শ্যামল স্টোরে প্রায় যেত বর্ষা। এ কারণে সে লক্ষণকে চিনত। ঘটনার দিন গুদামের সামনে দাঁড়িয়েছিল লক্ষণ। তখন বর্ষা দোকানের দিকে যাচ্ছিল। লক্ষণ তাকে বলে চিপস কিনতে ১০০ টাকার জন্য গোডাউনে আসো। পূর্ব পরিচিতির কারণে বর্ষা তার পিছু পিছু গোডাউনে গিয়েছিল। গুদামে ঢোকার আগেই বর্ষার হাতে কথামতো ১০০ টাকার একটি নোট গুঁজে দেয় লক্ষণ, যা পরে রক্তাক্ত হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া চার্জশিটে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআ. লীগের ১৭ বছরসহ সব আমলের আর্থিক অনিয়ম খুঁজবে সংসদীয় কমিটি
পরবর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু