শিক্ষিত অমানবিক সন্তানের চেয়ে অশিক্ষিত মানবিক সন্তান অনেক গুণ শ্রেষ্ঠ!

সুলতানা নুরজাহান রোজী | শুক্রবার , ৫ জুন, ২০২৬ at ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

সুখ, ভোগ, লালসা, বিলাসিতা, আধুনিকতা, অধিক চাওয়া পাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা বোধ শক্তি বিবেকহীন ও অমানবিক মানুষ কুলাঙ্গার সন্তানদের প্রতি ধিক্কার! মা বাবা আল্লাহর সৃষ্টির সেরা সম্পদ সেরা নেয়ামত সেরা উপহার সন্তানের জন্য একজন মা। যে মা সন্তানদের গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীর আলো বাতাস দেখিয়েছেন, আঁতুড় ঘর থেকে জীবন সংগ্রাম বড় করেছেন, নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে তুলে দেন, বৃষ্টিতে ভিজে রোদে জ্বলে ঘরে বাইরে সংসার সামলানো পড়ালেখা পরীক্ষার সময় রাতজাগা পাখি হয়ে সন্তানের পাশে বসে থাকা, ঘরে না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করা, সন্তানের হাসিতে সুখ খুঁজে পাওয়া সন্তানের দুঃখকে নিজের করে নেওয়া শুধু একজন মায়ের দ্বারা সম্ভব।

একজন মায়ের চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তগুলো পার করে তিলে তিলে গড়ে তোলে সন্তানদের। তাদের মানুষ করার জন্য প্রতিটি নিঃশ্বাসে সন্তানদের শান্তি সুখ কামনা করে। ভালোবাসা মমতার বাঁধনে জড়িয়ে রাখে। যেই মা না হলে আজকে সচিব হওয়া সম্ভব হতো না, প্রফেসর হওয়া হতো না, কানাডায় বসবাস করা হতো না।

একটা পরিবারে সন্তানকে শুধু বড় করা নয়, প্রকৃত মানবিক সন্তান ও সুশিক্ষিত সন্তান হওয়া বড় জরুরি। একজন সন্তান বড় করার পিছনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক ও দায়িত্ব থাকে। খেয়াল রাখতে হয় মায়ের সাথে সাথে পরিবারের অন্যদের।

ভাঙাচোরা ঘরে থাকে দিনমজুর ডাল ভাত খেয়ে সহজ জীবন যাপন করে, তাদের ঘরের মা বাবাকে কারো উপর নির্ভর করতে হয় না। বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয় না, এভাবে মরে পচে গলে যায় না। ভাঙাচোরা পরিবেশে সন্তান বড় করা ভীষণ হিমসিম খেতে হয় ঠিকই, কিন্তু আন্তরিকতা ভালোবাসা মমতা দিয়েই আগলে রাখে তাদের একজন মাকে একজন মানুষকে। পরিপাটি কাপড় চোপড় দামী গাড়ি বাড়ি থাকা মানুষগুলোর কাছেই বেশিরভাগ মা বাবাদের মূল্যায়ন কম সন্তানদের কাছে। কারণ, ওরা আধুনিক স্মার্ট ওরা মা বাবাকে মনে করে পরিত্যক্ত আবর্জনা। পরিবারের সদস্যদের উঠাবসা চলাফেরার চেয়ে বন্ধু বান্ধব নিয়ে হৈচৈ করা তাদের কাছে মুখ্য।

আমরা অতীতের দিকে একটু ফিরে তাকালেই বুঝতে পারি একটা যৌথ পরিবারে কদর অনেক বেশি। যেখানে মা বাবা দাদা দাদী চাচা চাচী ফুফুদের সমাগম। ভাগাভাগি করে খাওয়া একজন অন্যজনের সাথে সুখ দুঃখ প্রকাশ করা শেয়ার করা একই টেবিলে বসে একসাথে খাওয়া দাওয়া করা। সকাল সন্ধ্যা নিয়ম করে পড়তে বসা ঘরের মধ্যে হৈচৈ করা দৌড়াদৌড়ি করা এই পরিবেশের কোন বিকল্প নাই। আমরা এখন আরাম প্রিয় হয়ে ঝামেলা ছাড়াই থাকতে পছন্দ করি একা একা ছেলে মেয়ে বড় করার মধ্যে শান্তি খুঁজি, সুখ ভেবে ঘরের লক্ষ্মীগুলো কে বনবাসে পাঠাই বৃদ্ধ আশ্রমে যেতে বাধ্য করি বিভিন্ন অজুহাতে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমানবসৃষ্ট পরিবেশ দূষণ : জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি
পরবর্তী নিবন্ধপ্রকৃতি বাঁচলে মানবতা বাঁচবে