দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ মা–বাবাকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল ব্যবসায়ী নুরুল আমিন সোহাগের। তাদের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হলেও ছোটবেলা থেকে বসবাস করেছেন নগরীর বারোকোয়ার্টার এলাকায়। বর্তমানে থাকতেন আকবরশাহ থানাধীন ফয়’স লেকভিউ আবাসিক এলাকার নিজস্ব ভবনে।
চিকিৎসার জন্য ছোট বোনের জামাই মোশাররফকে নিয়ে গত ২ জুন সোহাগসহ ৫ জন ভারতে যান। তারা উঠেছিলেন দিল্লির ফ্লোরিশ স্টে বি হোটেলে। ৩ জুন রাতে দিল্লির ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ব্যবসায়ী সোহাগসহ ২১ জন। গতকাল শনিবার রাতে সোহাগের লাশ চট্টগ্রাম পৌঁছেছে। ফয়’স লেকভিউ আবাসিক এলাকার নিজস্ব ভবনটিতে ঢোকার মুখে সোহাগের ছবি সম্বলিত বেশ কয়েকটি শোক ব্যানার টানানো হয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলায় সোহাগের বাসায় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীর ভিড়।
গত শুক্রবার বাবা–মাকে সোহাগের দুঃসংবাদটি জানানো হয়। সোহাগের মা রোকেয়া বেগম ছেলের শোকে শয্যাশায়ী। সোহাগের স্ত্রী ফারজানা ফেরদৌস স্বামীর এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর সংবাদে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন। সোহাগের বৃদ্ধ বাবা আবদুস সোবাহান ড্রয়িংরুমে বসা। তিনি বারবার চোখের জল মুছছেন।
চার ভাই, চার বোনের মধ্যে সোহাগ দ্বিতীয়। সোহাগের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ইফাজুল আমিন আরাফ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মেঝ মেয়ে আরিফা পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ছোট মেয়ের বয়স পাঁচ মাস।
ছোট বোনের জামাই মোশাররফের কিডনি প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে দিল্লিতে গিয়েছিলেন সোহাগ। আগুনে পুড়ে ছোট বোন মুন্নী ও বোনের জামাই মোশাররফের অবস্থা খারাপ বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা দিল্লিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।












