বাবা–মাকে নিয়ে ঘটা করে আমাদের দেশে দিবস পালন করা হয়। অথচ যেই কাজটা এরচেয়েও বেশি জরুরি, মানুষ সেটাই ভুলে গিয়েছে। আজকাল মানুষ বৃদ্ধাশ্রমে বাবা–মাকে রেখে এসে সোশ্যাল মিডিয়াতে এই বিষয়ে বড় বড় স্ট্যাটাস দেয়। মিডিয়ার সামনে কিংবা মাইক হাতে নিয়ে বড় বড় স্লোগান দেয়। লোক দেখানো মেকি বাবা–মায়ের প্রতি আবেগ দেখানোর আসলে কোনো দরকার নেই। মানুষ ভুলে যায়। আসে সবার চোখকে ফাঁকি দিতে পারলেও সাত আসমানের উপরে একজন আছেন, যার চোখকে কেউ কখনো ফাঁকি দিতে পারে না। অনাদি কাল থেকে অনন্ত পর্যন্ত কেউ পারবেও না। মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয়। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অন্যান্য পশুর তুলনায় মানুষকে বিবেক দিয়েছেন, জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়েছেন, ভালো ও মন্দ বুঝতে শিখিয়েছেন। আফসোস মানুষ এই আল্লাহর উপহারগুলোর কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে। স্বার্থপরতা এবং হীনম্মন্যতার কারণে নিজের ওপর আরোপিত দায়িত্বের কথা মানুষ আজ নির্লজ্জের মতো অস্বীকার করে। দিন দিন মানুষের মাঝে মনুষত্ব হারিয়ে যাচ্ছে, পারিবারিক বন্ধন হালকা হয়ে যাচ্ছে, সন্তানের প্রতি পিতা–মাতার কিংবা পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্বের কথা সবাই ভুলে যাচ্ছে। মানুষ ভুলে যায় সময়ের আবর্তনে একদিন সবাইকেই যুবক–যুবতী থেকে বৃদ্ধ–বৃদ্ধা অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। আজকে যারা যৌবনের তাড়নায় বৃদ্ধ অবস্থাকে অবজ্ঞা করছে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে, একদিন তাদেরকেও সেই অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। কেউ সেটা ঠেকাতে পারবে না, পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ কখনো সেটা পারেনি। সময় কাউকে ক্ষমা করে না, কখনো করবেও না। মানুষ তার ছোট্ট জীবনে এই গুরুত্বপূর্ণ কথাটাই বারবার ভুলে যায়। এইজন্য পবিত্র কুরআন শরীফে বলা আছে মানুষ তার জীবনে বড্ড তাড়াহুড়া করে। সহি হাদিসে আছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লাম একদা উনার দুধ–মা বিবি হালিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দেখে নিজের গায়ের চাদর খুলে মাটিতে বিছিয়ে দিয়েছিলেন। একজন দুধ–মার মরতবা ও মর্যাদা যদি এতটাই বেশি হয়, তাহলে আসল বাবা মায়ের কতটুকু হবে সেটা কি কখনো আমরা ভেবে দেখেছি?












