বন্যাকবলিত দুর্গম জনপদে মানবিক সহায়তা নিয়ে ছুটে চলেছে Unity Spark–US

| শনিবার , ১১ জুলাই, ২০২৬ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Unity Spark –US। চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ কক্সবাজারের পেকুয়া এবং সাতকানিয়া–লোহাগাড়া অঞ্চলে সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিট পৃথক পৃথক টিমে বিভক্ত হয়ে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় শত শত পরিবার তাদের বসতঘর হারিয়েছে এবং হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Unity Spark এর উদ্যোগে বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬০০–৭০০টি পরিবারের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নানা ঝুঁকি উপেক্ষা করে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় সহায়তা পৌঁছে দেন।

একই সঙ্গে কক্সবাজারের পেকুয়া ইউনিটের উদ্যোগে প্রায় ৭০০–৮০০ জন মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়া–লোহাগাড়া ইউনিটও নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয়ভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিট একাধিক টিমে বিভক্ত হয়ে এমন সব দুর্গম অঞ্চলে কাজ করছে, যেখানে সাধারণত অন্যান্য ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা সংস্থার সহায়তা তুলনামূলকভাবে কম পৌঁছায়। মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত মানুষদের কাছে পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ সময় ইউনিটি স্পার্ক (Unity Spark – US) এর স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী সরাসরি বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ত্রাণ বিতরণ ও সমন্বয় কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

এই ইয়ুথ লিডার বলেন, “মানুষের পাশে থাকা আমাদের অঙ্গীকার। সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থনই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। বন্যার সময় ত্রাণ দিয়ে চলে গেলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এখানে বহু পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়েছে; অনেকের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নেই। কোথাও কোথাও মাইলের পর মাইল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আবার কিছু এলাকায় এখনো গলা সমান পানি রয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং অনেক অঞ্চল সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।”

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, Unity Spark – US ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়ও উল্লেখযোগ্য মানবিক ভূমিকা পালন করেছিল। সে সময় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দেশের যে কোনো দুর্যোগ, সংকট কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে Unity Spark – US সবসময় প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতেও একই অঙ্গীকার নিয়ে তাদের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরেকর্ড বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ পেলেন মেয়রের ত্রাণ সামগ্রী
পরবর্তী নিবন্ধফ্যাশন প্রদর্শনীতে মেধার স্বাক্ষর রাখলেন সিবিইউএফটি শিক্ষার্থী