প্রতিভা অন্বেষণে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

নিবন্ধনে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় অবস্থানে

স্পোর্টস ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ

শিশুকিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১২ থেকে ১৪ বছরের কিশোরকিশোরীদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মেধা বিকাশের লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টএই ৮ ইভেন্টে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিভা বাছাই করা হবে। প্রতিযোগিতার কাঠামো সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেন, তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনতে ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরপর উপজেলা, জেলা এবং আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে সেরা প্রতিভারা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। সমগ্র বাংলাদেশকে আমরা ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করেছি। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোন মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ‘অভূতপূর্ব’ সাড়া পাওয়ার কথা বলেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, ১২ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশ থেকে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোরকিশোরী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে কিশোরীর সংখ্যা ৪৪ হাজার ১৩৩ জন, যা তার ভাষায়, নারীদের ‘ক্রীড়াপ্রীতি ও ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’ আবেদনের দিক থেকে ১৫ হাজার ৩২৪ জন নিয়ে সিলেট জেলা শীর্ষে এবং এরপর যথাক্রমে চট্টগ্রাম (৯ হাজার ৩০৫ জন) ও ঢাকা (৮ হাজার ৮৯৬ জন) রয়েছে বলে তিনি তথ্য তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৬৪ জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় উপস্থিত থাকবেন। ‘স্থানীয় পর্যায়ের কোচ ও কর্মকর্তারা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অন্বেষণ করবেন। পরে তাদের বিভাগীয় শহরের বিকেএসপিতে ক্রীড়াবৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা ও খেলাধুলার সব দায়িত্ব সরকার নেবে। খেলোয়াড়দের সুবিধার্থে সব বিভাগীয় বিকেএসপিগুলোকে ঢাকা বিকেএসপির মত স্বয়ংসম্পূর্ণ করার নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।’ তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে সরকারের ‘দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা’ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪৯৫টি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে উল্লেখিত আটটি ইভেন্টের খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া খেলার মাঠ সংরক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক হিসেবে প্রতিমন্ত্রী নিজেই দায়িত্ব পালন করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচ
পরবর্তী নিবন্ধএসো ছন্দের আনন্দযজ্ঞে