চট্টগ্রামে নগরীর পাশাপাশি উপজেলাতেও বাড়ছে ডেঙ্গুর বিস্তার। একটা সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কেবল নগরীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গত কয়েক বছর ধরে সেই চিত্র বদলে গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর নগরীর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উপজেলার রোগী। চলতি বছর গত জুন থেকে ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। সেই মাসে নগরীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৪৩ জন এবং উপজেলায় আক্রান্ত হয় ৪৮ জন। এছাড়া জুলাই মাসে নগরীতে আক্রান্ত হয় ২২৩ জন এবং উপজেলাতে আক্রান্ত হয় ২২৫ জন। অন্যদিকে চলতি আগস্ট মাসে গতকাল পর্যন্ত নগরীতে আক্রান্ত হয় ১৭৮ জন এবং উপজেলায় আক্রান্ত হয় ১৭৪ জন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২২৫ রোগীর মধ্যে উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ৫১৫ জন। এরমধ্যে কেবল সীতাকুণ্ড উপজেলাতে আক্রান্ত হয়েছে ১২৯ জন। এছাড়া কর্ণফুলী উপজেলাতে ৯২ জন, বাঁশখালীতে ৩৮ জন, লোহাগাড়ায় ৩৫ জন, পটিয়ায় ৩৪ জন, রাউজানে ৩৩ জন, সাতকানিয়ায় ২৫ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ২২ জন, মীরাসরাইয়ে ২২ জন, আনোয়ারায় ২১ জন, হাটহাজারীতে ১৭ জন, চন্দনাইশে ১৬ জন, ফটিকছড়িতে ১১ জন, বোয়ালখালীতে ১১ জন এবং সন্দ্বীপে আক্রান্ত হয় ৯ জন।
অপরদিকে চলতি মাসে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৩৯১ জন। এছাড়া গত জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৫৩৬ জনের এবং মৃত্যু হয় দুইজনের। জুন মাসে আক্রান্ত ১২২ জন, মে মাসে ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন আক্রান্ত ও মৃত্যু ১ জনের এবং জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৬৮ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে কখনো মাঝারি ও কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমছে। বিশেষ করে ফুলের টব ও ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত বস্তুতে পানি জমার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা প্রজননে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও বাড়ছে। তাই সবাইকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও যাতে তিনদিনের বেশি পানি না জমে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এছাড়া রাতে ছাড়াও দিনেরও বেলায়ও মশারি টানাতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফ্লুইড ম্যানেজম্যান্ট। অনেক অনেক রোগী এনএসওয়ান রিপোর্ট হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। এটি আসলে কোনো দরকার নাই। ডেঙ্গুর প্ল্যাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তখন ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয়। তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজম্যান্টের প্রয়োজন পড়ে। আবার প্ল্যাটিলেট কমা শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পর পর। তখন শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্ল্যাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আসলে প্ল্যাটিলেট যখন বাড়া শুরু হয় তখন দ্রুতই বাড়ে। কাজেই ডেঙ্গু জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামে উপজেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত বাড়ছে। তবে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙগুলোতে আলাদা ডেঙ্গু ব্লক করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু ব্লকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে মারা যায় ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন।












