অপ্রতিমের বয়স মাত্র তেরো বছর। যে বয়স থাকার কথা শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, বন্ধুত্ব, হাসি আর স্বপ্নে। যে বয়সে একটি শিশুর ভাবার কথা পরীক্ষা, ফুটবল, প্রিয় খেলা আর বড় হয়ে কী হবে–এসব নিয়ে। কিন্তু অপ্রতিম আর নেই। তার নিথর শরীর আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে–আমরা কি এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছি, যেখানে একটি মোবাইল ফোনও একটি শিশুর জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে? একটি শিশু কষ্ট পেলে একজন বাবা–মায়ের ভেতরে কী ঘটে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সেই কারণেই অপ্রতিমের বাবা–মায়ের কথা ভাবলে বুক ভার হয়ে আসে। একজন বাবা যখন তার সন্তানকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন, তখন তিনি কী অনুভব করেন? একজন মা যখন বুঝতে পারেন, যে কণ্ঠস্বর, পায়ের শব্দ ও প্রিয় মুখটি প্রতিদিনের জীবনের অংশ ছিল, সেটি আর কখনো ফিরে আসবে না–সেই শূন্যতার কোনো ভাষা কি আছে?
অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, কোনো অবহেলা বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ছিল কি না–এসব প্রশ্নের উত্তর গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জল্পনা দিয়ে নয়, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। ন্যায়বিচার মানে দ্রুত কাউকে দায়ী করা নয়; ন্যায়বিচার মানে সত্য উদঘাটন করা। কেউ দায়ী হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তার দায় নির্ধারণ করতে হবে। আর ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশুর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে, সেই শিক্ষাও নিতে হবে।













