চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার বলেছেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, নিরপরাধ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, প্রকৃত অপরাধী যেন ছাড়া না পায়। গতকাল শনিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সকল বিভাগের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং সহযোগিতার প্রয়োজন। পেজেন্টেশনের মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির জন্মলগ্ন থেকে মামলার পরিমাণ ও বিচারক সংখ্যা এবং বর্তমান মামলা বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন। কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোকাল পার্সন মো. মহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হামীমুন তানজীন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুহাম্মদ আবুল মনছুর। সঞ্চালনায় ছিলেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষে উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান, আনসার ভিডিপি’র পক্ষে পরিচালক মো. আমিন উদ্দিন, উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. হাসান ইকবাল চৌধুরী, শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আরাফাতুন নূর বাঁধন, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর) থেকে সহকারী কমিশনার খালেদ সাইফুল্লাহ, পিবিআই, শিল্প পুলিশ, নৌ–পুলিশ, ট্রাফিক ও সিআইডি’র পক্ষে নিজ নিজ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ হোসাইন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কাজী সাইফুল আলম, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আইন কর্মকর্তা মাসুম রেজা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রোমানা আক্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও কারা অধিদপ্তরের পক্ষে ডেপুটি জেল সুপার, নিরাপদ খাদ্য অফিসার, প্রবেশন অফিসার (মেট্রো) ও অন্যান্য অংশীজনসহ চট্টগ্রাম মহনগর এলাকার ১৬ থানার অফিসার ইন–চার্জ এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন। একই সাথে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দীন এবং মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিফুল হক ভূইয়া কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন। কনফারেন্সের শুরুতে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এরপর ফৌজদারী কার্যবিধি সংশোধনীর উপর পেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। আলোচনায় তিনি আসামীকে সঠিকভাবে আইনের মাধ্যমে আটক থেকে শুরু করে বিচার সম্পন্নকরণের বিষয়ে আলোচনা করেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দ্রুত সঠিকভাবে মামলার তদন্ত, জব্দকৃত আলামত ধ্বংস, আদালতের উপরে উঠার ও নিচে নামার পথে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, আদালতে আগত আসামি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাছাড়া আদালত অঙ্গনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা গুরুত্বারোপ করেন। মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কিশোর গ্যাংদের আইনের আওতায় আনা ও আদালতের পরিবেশ রক্ষায় পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। কনফারেন্সে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় ফৌজদারী মামলার বিভিন্ন বিষয়, যেমন–সমন জারী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সাক্ষী উপস্থিতকরণ, জখমী সনদ, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি, আদালতের নিরাপত্তা বিধান ইত্যাদি বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনাও অনুষ্ঠত হয়। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার বক্তব্যে আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনীর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিপালন করতে হবে। তদন্তকাজে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করতে বাধ্য। যদি কেউ অসহযোগিতা না করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যার উপর যা দায়িত্ব তা আন্তরিকতার সাথে পালন করাই হলো দেশ প্রেম। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পারষ্পরিক সমন্বয়ে আইনের অধীনে থেকে জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।












