একটি মেয়ে বড় হয়ে ওঠার আগেই তাকে রপ্ত করতে হয় আত্মরক্ষার কঠিন ব্যাকরণ। কোথায় থামতে হবে, কতটা দূরত্ব বজায় রাখতে হবে কিংবা কখন ঘরে ফিরতে হবে এই অদৃশ্য নিয়মের বেড়াজালেই তার জীবন অতিবাহিত হয়। যেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়ভার কেবল তার একার। অথচ ঘর থেকে বাহির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র প্রতিটি ধাপে আজও নারী এক অদৃশ্য অনিরাপত্তার সঙ্গে লড়াই করে চলেছে। এই অনিরাপত্তা কেবল তার ব্যক্তিজীবনেই সীমাবদ্ধ নয়; এর গভীর প্রভাব পড়ে জীবনের সবচাইতে পবিত্র ও স্পর্শকাতর অধ্যায় মাতৃত্বে। আজ আমাদের সামনে এক নিদারুণ বাস্তবতা হলো, বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে আজও উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা ও দক্ষ সহায়তার অভাবে মা ও নবজাতকের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। যে সময়টি হওয়া উচিত ছিল পরম মমতা ও আনন্দের, সচেতনতার অভাবে তা অনেক সময় পরিণত হচ্ছে শোকের মিছিলে।
একটি গভীর জিজ্ঞাসা আমার সমাজের কাছে যে সমাজ জীবনের জন্মদাত্রীকে তাঁর চরম সংকটের মুহূর্তে ন্যূনতম নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, সেখানে নারীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় আসলে কোথায়?
মাতৃত্ব হোক নিরাপদ, ভীতিমুক্ত এবং সম্মানের। মাতৃত্ব আর কোনো ভয়ের নাম নয়, বরং তা হয়ে উঠুক ভালোবাসা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক।













