অভিমান করতে করতে কখন যে সময় পার হয়ে যায় কেউ জানে না। ছোটবেলায় কোনো অভিমান ছিলো না। ভাই বোনের সাথে ঝগড়া হলে কখন যে আবার মিলে যেতাম বুঝতামও না। ছোটবেলায় ঝগড়া হলে কোনদিন সরি বলিনি। কিছুক্ষণ কথা বন্ধ রাখার পর আবার সেই মিশে যেতাম আগের মতো। কথা না বললে কেমন যেনো লাগতো! কষ্ট হতো।
এখন বড়ো বেলায় খুব অভিমান হয়। ভাবি আমি কেন আগে কথা বলবো! সে আগে বলবে। এভাবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায়, অভিমানে রক্তের সম্পর্কের মানুষটাও আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়।
জীবনটা পদ্মপাতার জলের মতো। একটু বাতাস আসলেই টুপ করে পড়ে যায়। অথচ অভিমান পড়ে না। সেই একগাদা অভিমান, অভিযোগ নিয়ে একদিন পৃথিবী ছাড়তে হয়। আর যে বেঁচে থাকে, তার প্রতিটা মুহূর্তের কথা মনে পড়ে। শৈশব হারিয়ে গেলেও বুকের মধ্যে এক অজানা যন্ত্রণা ছটফট করে। মনে করিয়ে দেয়, খুনসুটির কথা, একে অপরের খাবার কেড়ে খাওয়ার কথা। বড় মাছের টুকরো ওদের পাতে পড়লে রাগ করে সিট থেকে উঠে যাবার কথা। স্মৃতিগুলি বারবার মনে করিয়ে দেয় তোরা কতো আপন ছিলি। অভিমানে সময় হারিয়ে যায়, মানুষ হারিয়ে যায়! অথচ চাইলেই কাছে গিয়ে, জড়িয়ে ধরে বলা যায়, Sorry. এই ছোট একটা শব্দে হয়তো সম্পর্কটা আবার আগের মতো হয়ে যায়। শরীর, মন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা বড় অংশও বটে।













