রাজনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাময়িক এবং সমসাময়িক। আজকের জ্বলন্ত রাজনৈতিক ইস্যু দশ বছর পর তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সাহিত্য যদি কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের বাহক হয়, তবে সেই সৃষ্টির আয়ুও হয়ে যায় সীমিত। রাজনীতিমুক্ত সাহিত্য দেশ–কাল–পাত্রের সীমানা ছাড়িয়ে শাশ্বত ও চিরকালীন আবেদন রাখতে পারে।
রাজনীতি মানেই কোনো একটি পক্ষ নেওয়া। যখন লেখক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের চশমা পরে জীবনকে দেখেন, তখন তার কলম একপেশে হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পক্ষান্তরে, রাজনীতিহীন সাহিত্যে লেখক নির্মোহভাবে মানুষের মনস্তত্ত্ব, আবেগ এবং জীবনের গূঢ় সত্যগুলো তুলে ধরতে পারেন।
অনেকের মতে, শিল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘আনন্দ দান’ বা ‘সৌন্দর্যের সৃষ্টি’। সাহিত্যে যখন রাজনীতির স্লোগান বা প্রচারপত্র ঢুকে পড়ে, তখন তার শৈল্পিক সুষমা নষ্ট হয়। একটি কবিতা বা গল্প যদি কেবল সমাজ সংস্কারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে তার রস আস্বাদনে বাধা পড়ে।
রাজনীতি মানুষকে প্রায়শই বিভাজিত করে ‘আমরা’ বনাম ‘তারা’। কিন্তু সাহিত্যের কাজ হওয়া উচিত মানুষকে জোড়া লাগানো।













