স্বাধীনতা ও একুশে পদক পাওয়া নাট্যজন আতাউর রহমান আর নাই। গত সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয় (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। গুরুতর অসুস্থ হলে গত শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে আতাউর রহমান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকটি মাধ্যমে কাজ করেছেন এই নাট্য ব্যক্তিত্ব। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি মঞ্চনির্দেশনা করেছেন। লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বাধীনতাযুদ্ধ পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত। মঞ্চনাটকে অবদানের জন্য তিনি ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা : প্রয়াত গুণী অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের পাশাপাশি নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন এসেছিলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে তার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হলে ফুলে ফুলে ঢেকে যায় প্রাঙ্গণ। নাট্যকর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, সহশিল্পী ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষবারের মত শ্রদ্ধা জানান এই নাট্যজনকে।
সেসময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অভিনেত্রী লাকী ইনাম স্মরণ করেন আতাউর রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সবে জন্ম হয়েছে ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের’। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মঞ্চ প্রযোজনার কাজ চলছে। সেই নাটকেই আতাউর রহমানের নির্দেশনায় প্রথম মঞ্চে কাজ করি। তিনি হাতে ধরে আমাকে মঞ্চে থিয়েটার করা শিখিয়েছিলেন। উনি আমার প্রথম নির্দেশক। লাকী ইনাম বলেন, আতাউর রহমান ছিলেন অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী একজন মানুষ। যখনই মাইক্রোফোন পেতেন, তার বক্তৃতায় উঠে আসত বিশ্বের বিখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, নাট্য গবেষক ও দার্শনিকদের নানা রেফারেন্স। একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি কখন এত লেখাপড়া করেন আতা ভাই? আপনার থেকে আমাদের শেখার শেষ হবে না এ জনমেই। উত্তরে আতা ভাই শুধু হেসে বলতেন, ‘আমার পড়তে ভালো লাগে’।
আতাউর রহমানকে শেষবারের মত বিদায় জানাতে শহীদ মিনারে আরও এসেছিলেন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, লাইসা আহমেদ লিসা, তারিক আনাম খান, খায়রুল আনাম শাকিল, মফিদুল হক, আসিফ মনির, শংকর সাঁওজাল, মোহাম্মদ বারী, সারাহ জাকির, আজাদ আবুল কালাম, জিতু আহসান, কমাল উদ্দিন, রওনক হাসান, পার্থ তানভির নভেদ, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, মোসাদ্দেক হোসেন মান্না, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, নাসিরুল হক খোকন, তামান্না রহমান, আমিনুর রহমান মুকুল ও কাওসার চৌধুরীসহ অনেকে।
মায়ের কবরে শেষ শয্যা : ঢাকার বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান নাট্যকর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, সহশিল্পী ও শুভানুধ্যায়ীরা। এর আগে দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডের বাসার সামনে তার জানাজা হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ, জাহিদ হাসান, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ও গাজী রাকায়েতসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে।












