নজরুলের অসাম্প্রদায়িকতা ও স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে

প্রিমিয়ার ভার্সিটিতে সেমিনারে উপাচার্য

| রবিবার , ৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসৃষ্টির প্রাসঙ্গিকতা ও তরুণ প্রজন্মের ভাবনা নিয়ে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসৃষ্টি: প্রাসঙ্গিকতা ও তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কমিটির আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির। সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসৃষ্টির প্রাসঙ্গিকতা এবং তরুণ প্রজন্মের চিন্তা ও সমাজে নজরুলের সাহিত্যভাবনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। উপাচার্য বলেন, নজরুলের অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য, মানবতা ও স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, নজরুলের চিন্তা ও আদর্শকে বাস্তব জীবনে ধারণ ও প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি নজরুল বর্ষের বিভিন্ন আয়োজনের সফলতা কামনা করেন। রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির নজরুল বর্ষের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নবচেতনা ও জাতীয় চেতনা জাগ্রত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতেও নজরুলের আদর্শ ও চেতনাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন স্বাধীনতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। নজরুলকে শুধু কবি হিসেবে নয়, তাঁর রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক চিন্তার আলোতেও মূল্যায়ন করতে হবে। মানুষের অধিকার, সাম্য ও সমাজের কল্যাণে নজরুলের আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর কবিতা ও লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন এবং মানুষের অধিকার ও মুক্তির কথা বলেছেন। তাঁর ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাসহ বিভিন্ন রচনায় শোষণ, অন্যায় ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর চিন্তার মূল ভিত্তি ছিল সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবমুক্তি ও মানুষের মর্যাদা। তাই বর্তমান প্রজন্মের উচিত নজরুলের এই চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে সমাজ ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের ডিরেক্টর সাদাত জামান খান।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জয় বিশ্বাস। সেমিনারের অংশ হিসেবে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন ইংরেজি বিভাগের মেহেরুন্নেসা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন গণিত বিভাগের উর্মিলা রানী এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন আর্কিটেকচার বিভাগের মেহেরুন নাহার। গান প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন বিবিএ বিভাগের ইমু ধর, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সিএসই বিভাগের পুষ্পিতা দে এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন ইইই বিভাগের প্রিয়াংকা দে।

নৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন বিবিএ বিভাগের জোয়ারিয়া মোস্তফা ইন্নি, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ডিইএল বিভাগের ঐদ্রিলা ঘোষ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন এসএসডি বিভাগের নবনীতা ধর। আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন বিবিএ বিভাগের জোয়ারিয়া মোস্তফা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ডিইএল বিভাগের মেহেরুন নেসা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন ডিইএল বিভাগের সায়মা সোহেলী দিনা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাউজান উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন গিয়াস কাদের এমপি
পরবর্তী নিবন্ধঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিজিএমইএ চট্টগ্রামে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল