রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বৃহত্তম বনগ্রাম এলাকা। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস এই এলাকায়। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য বনগ্রাম সড়কটি যেন এক অভিশাপে পরিণত হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে তৈরি হয় কৃত্রিম বন্যা। এর বাইরেও খানাখন্দের সড়কে হেলেদুলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলে যানবাহন। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হন শিক্ষার্থী, কর্মজীবীসহ হাজার হাজার মানুষ। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্ঠ হাসপাতাল টু কলাবাজ্জেঘোনা সেগুন বাগিচা সড়কটির দুই পাশের ড্রেনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। কোথাও আবার ভবন নির্মাণের কারণে ড্রেনের কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই। যতটুকু ড্রেন দৃশ্যমান আছে, তাও আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া এই ড্রেনেজের সাথে সংযুক্ত ছড়াটির ওপরও একাধিক বিল্ডিং নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটির ওপর দিয়ে হাঁটু সমান পানির ধারা বয়ে যায়। এতে সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি আশেপাশের ঘরবাড়িও পানিতে ডুবে যায়। ফলে স্কুল–কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ হয়ে পড়ে। অথচ এই সড়কটিই বৃহত্তর বনগ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ বছর আগেও এই এলাকায় জনসংখ্যা এত বেশি ছিল না। বিশেষ করে ওয়ান–ইলেভেনের সময়ে কাপ্তাই প্রজেক্ট ও কেপিএম থেকে উচ্ছেদ হওয়া বহিরাগত মানুষ এখানে এসে প্রথম বসতি গড়ে তোলে। পরবর্তীতে নদীভাঙা মানুষ বনবিভাগের দখলীয় পিএফ জায়গা এবং কিছু দলিলভুক্ত জায়গা কিনে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে হাজার হাজার মানুষ এখানে জায়গা কিনে ছোট–বড় শতশত দালানকোঠা নির্মাণ করে। কেউ কেউ সরকারি আইন মেনে ভবন করলেও, অধিকাংশ মানুষই কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যার যেভাবে ইচ্ছে বসতি গড়ে তুলেছে। অথচ আগে যখন এই দালানকোঠা ছিল না, তখন বৃষ্টির পানি নালা দিয়ে সরাসরি গুমাইবিলে চলে যেত। সরেজমিনে গেলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এই দুর্ভোগের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইলিয়াস সিকদার এবং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, সরকারি ড্রেন ও ছড়া দখল করে যারা যুগের পর যুগ ধরে এসব ইমারত নির্মাণ করেছেন, তারা অধিকাংশই বহিরাগত এবং প্রভাবশালী। স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে তারা এই অবৈধ দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। বিএনপির নেতা মোহাম্মদ বালী সওদাগর এবং যুবদল নেতা মো. সালাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে এসব ভবন নির্মাণে কেউ বাঁধা দিলে উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। আমরা এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, সড়কটি সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।












