লিটনদের চোট সমস্যায় তোপের মুখে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ

স্পোর্টস ডেস্ক | মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:০২ পূর্বাহ্ণ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টিটোয়েন্টি সিরিজের দলে রাখা হলেও খেলা হয়নি একটি ম্যাচও। খেলা হয়নি জিম্বাবুয়ে সফরে। এবার আগামী মাসের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টেও খেলতে পারবেন না লিটন কুমার দাস। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ তার এই দুরবস্থা চলছে। কেন সেরে উঠছে না তার চোট? এই গোলকধাঁধায় বিসিবির খরচ হয়ে গেছে ২৫ লাখ টাকার আশেপাশে। শুধু দেদার অর্থ খরচই নয়, লিটনকে জিম্বাবুয়েতে পাঠানো ও ফেরত আনা, সমস্যা ঠিকমতো চিহ্নিত করতে না পারা, সবকিছুতেই বিসিবি বিব্রত হয়েছে ব্যাপকভাবে। ক্ষুণ্ন হয়েছে ভাবমূর্তি। তাই বিসিবির মেডিকেল বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে বোর্ড। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাদেরকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে কাফ মাসলের এই চোট পেয়েছিলেন লিটন। তখন মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চোট গুরুতর নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টিটোয়েন্টি সিরিজের দলেও তাকে রাখা হয়েছিল। তবে একটি ম্যাচেও তিনি খেলতে পারেননি। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে তাকে রাখা হয়। চোট সেরে না ওঠায় সেই দল থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওয়ানডে সিরিজের দলে তাকে রাখা হয়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি মাঠে নামতে পারবেন বলেও জানানো হয়। কিন্তু জিম্বাবুয়ে পাঠিয়েও লাভ হয়নি। তার চোট সারেনি। ফিরে আসতে হয় তাকে দেশে। শেষ পর্যন্ত আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলেও তাকে রাখা হয়নি। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের ব্যাখ্যা ছিল, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লিটনের এমআরআই স্ক্যান করিয়ে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। সেভাবেই তার পুনর্বাসন শুরু হয়। কিন্তু অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার বারবারই অভিযোগ করেন, তার ব্যথা রয়েই গেছে। দেশে বারবার তার স্ক্যান করিয়েও কিছু ধরা পড়েনি। শেষ পর্যন্ত তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে স্ক্যান করানো হয় এবং সেখানে তার পায়ে ফোলা ধরা পড়ে। এখন সেটি কাটিয়ে ওঠার পথে আছেন তিনি। এই সময়ে তার জিম্বাবুয়েতে আসাযাওয়া, সিঙ্গাপুরে আসাযাওয়া, চিকিৎসার খরচসহ সবকিছু মিলিয়ে বিসিবির খরচ হয়ে গেছে ২৫ লাখ টাকার মতো। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে বোর্ডকে বারবারই বলা হয়েছে, লিটনের চিকিৎসার প্রটোকলে তাদের কোনো ভুল হয়নি এবং তাকে এমন কোনো অনুশীলন দেওয়া হয়নি, যেটির কারণে চোট বেড়েছে বা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তিনি। কিন্তু সামগ্রিক সমন্বয়হীনতার দায় তাদের ওপরই দিচ্ছে বোর্ড। দেশে স্ক্যানে কিছু ধরা পড়েনি, এটা সত্য। তবে এভারকেয়ার হাসপাতালের স্ক্যানের মান নিয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগেরই সংশয় ছিল। তাহলে সেখানেই কেন স্ক্যান করানো হলো, বোর্ড কর্তাদের সেই প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয়েছে মেডিকেল বিভাগকে। দল ঘোষণার পর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, তারা মেডিকেল বিভাগের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই জিম্বাবুয়েতে দলে রেখেছিলেন লিটনকে। ‘লিটনের ঘটনায় যদি একদম প্রথম থেকে যাই লিটন প্রথম খেলল ইনজুরড হলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে, এরপর কিন্তু টিটোয়েন্টি সিরিজেও সে দলে ছিল। তখন যে চিকিৎসা হয়েছিল কাফ মাসলে ইনজুরি, কিন্তু অত বড় কিছু নয়। পরে সে যখন টিটোয়েন্টি খেলতে পারেনি, তখন আরেকটা স্ক্যান হয়, সেখানে গ্রেড ওয়ান টিয়ার ধরা পড়ে। মেডিক্যালি এই ধরনের চোট সারতে তিন সপ্তাহের বেশি লাগার কথা নয়। সেই তিন সপ্তাহ কিন্তু জুন মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপর যেটা হলো, টিটোয়েন্টির সময় কথা হলো যে, যেহেতু সংশয় আছে তো, সেহেতু আমার টেস্ট ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই ওকে পাঠিয়ে দেয়া উচিত, এসে একটু পুনর্বাসন করে যেন প্রস্তুত হতে পারে।’ প্রধান নির্বাচক অবশ্য এখানে স্ক্যান রিপোর্টের কথাই বললেন, মেডিকেল বিভাগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন না তিনি। ‘এটা আসলে মেডিকেল বিভাগের দোষ দিতে পারছি না। কারণ যখন স্ক্যানগুলি এসেছে, তখন কিন্তু স্ক্যানে তেমন কিছু ধরা পড়েনি। যেটা প্রথমে ধরা পড়েছিল, সেটাই ছিল। কিন্তু লিটনের ব্যথাটা যাচ্ছিল না। আবার যখন এখানে স্ক্যান করেছে, তখনও কিছু আসেনি। তারপর আমরা টেস্ট ম্যাচটা থেকে ওকে সরিয়ে নিয়েছি। ওয়ানডে সিরিজে খেলতে যখন চলে গেছে, তার পরও অভিযোগ করছিল যে, ওর ব্যথা আছেই। এই ব্যাপারটা আসলে মেডিকেল বিভাগের ভুল কি না, বলতে পারব না। কারণ স্ক্যানে তো তারা কিছু পাননি। তারা তো আসলে প্রমাণেই যান। কিন্তু সেখানে কিছু খুঁজে না পেয়ে এর ভিত্তিতেই লিটনকে নেওয়া হয়েছে। পরে আবার একটা স্ক্যান করেছে। বারবার স্ক্যানে পরবর্তী কিছু ধরা পড়েনি। পরের যে স্ক্যানটা সিঙ্গাপুরে হয়েছে, সেটাতে আসলে ফোলা ধরা পড়েছে, টিয়ার নেই। এখন হয়তো সে ঠিক আছে, তবে তাকে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে হবে।’ লিটনের চোট নিয়ে ধাঁধায় ছিল সবাই। তবে সমস্যা তো শুধু তারই নয়। নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসানও এখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে। সব মিলিয়েই এবার কঠিন জবাবদিহিতার মুখে পড়েছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। একজন পরিচালককে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে সবকিছু খতিয়ে দেখতে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বোর্ডকে অবহিত করবেন বিস্তারিত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআর্জেন্টিনার বিপক্ষে কাব্রালের করা গোলই বিশ্বকাপ সেরা
পরবর্তী নিবন্ধসিএনজি টেক্সিতে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে : যাত্রীদের অভিযোগ