প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করুন, জেনে রাখুন, কুরআন, সুন্নাহ, এজমা, কিয়াস, দলীল চতুষ্ঠয় এর আলোকে আল্লাহর নির্দেশিত রাসূলুল্লাহর প্রদর্শিত সাহাবায়ে কেরাম তাবেয়ীদের অনুসৃত মুজতাহিদ ইমামগণের প্রদত্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক মর্ম অনুধাবণ করুন। আজকের মুসলিম সমাজে বিদ’আত শব্দটি নিয়ে নানা ধরণের ভুল ধারণা ও বিতর্ক দেখা য়ায়, অনেকে এমন ধারণা করেন রাসূলুল্লাহর যুগে যে কাজটি বর্তমান রূপে ছিলনা সেটিই বিদ’আত এবং তাই পরিত্যাজ্য। নিজের মতের বিরোধী হলেই কোন শরীয়ত সম্মত আমল নিজের পছন্দ না হলেই বিদ’আত আখ্যা দেয়া, আমলকারীকে বিদ’আতী বলা সমীচীন নয়। এ বিষয়ে তাফসীরকার, হাদীস বিশারদ ও মুজতাহিদ ইমামগণের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পর্যালোচনার লক্ষ্যে এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। আবেগ বা বিতর্কের দৃষ্টিতে নয় বরং সাহাবায়ে কেরামের আমল ও শরয়ী মূলনীতির অধীনে বিদ’আতের প্রকৃত ধারণা নিরূপণ করা উচিত।
বিদ‘আতের সংজ্ঞা
বিদ‘আত শব্দটি আরবি। এর অর্থ নতুন সৃষ্টি, নতুন উদ্ভাবন, পবিত্র ক্বোরআনে শব্দটি উল্লেখ হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেন, ‘‘(প্রিয় মাহবূব) আপনি বলুন, আমি কোন নতুন রাসূল নই। (সূরা আল আহকাফ–৪৬ : ৯)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা প্রণেতা ইবনে হাজর আসকালানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বিদ‘আতের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন, পূর্ব দৃষ্টান্ত ছাড়া কোন কিছু আবিষ্কার করার নাম বিদ‘আত। (ফাতহুল বারী, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা–২৫৩)
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বিদ‘আতের সংজ্ঞায় উল্লেখ করেন, ‘‘বিদ‘আত বলতে এমন নতুন উদ্ভাবিত জিনিসকে বুঝায় যা প্রমাণের জন্য শরীয়তের কোন ভিত্তি নেই। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকমা: পৃষ্ঠা–২৮৯)
ইমাম শরফুদ্দীন আন–নববী আশ্ শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, শরীয়তের পরিভাষায় বিদ‘আত হলো এমন নতুন কিছু সৃষ্টি করা, উদ্ভাবন করা যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর যুগে ছিল না। (তাহযীযুল আসমা ওয়াল লুগাত, খণ্ড–৩, পৃষ্ঠা–২২)
এ প্রসঙ্গে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি প্রণিধানযোগ্য। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করে যার ভিত্তি ধর্মে নেই তা প্রত্যাখ্যাত। (সহীহ মুসলিম: হাদীস : ৪৫৮৯)
এ হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় ইসলামী শরীয়তে যে কাজের দালিলিক কোন ভিত্তি নেই তা হবে প্রত্যাখ্যাত বিদ‘আত। বর্ণিত হাদীসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে শুধু নতুন কিছু বলা হয়নি, বলা হয়েছে, আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং বিদ‘আত নির্ধারণের ক্ষেত্রে একমাত্র নতুন হওয়াটাই মাপকাটি নয়। বরং এর শরীয়ত সম্মত ভিত্তি আছে কিনা এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ‘আতের প্রকার ভেদ:
বিজ্ঞ মুজতাহিদ ইমামগণ বিদ‘আতের প্রকারভেদ নির্ধারণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি–এর গবেষণা মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুসরণীয়। তিনি বলেন, ‘‘বিদ‘আত দু’প্রকার। প্রশংসিত বিদ‘আত, নিন্দনীয় বিদআত। যে বিদ‘আত সুন্নাহ্ কর্তৃক সমর্থিত তা প্রশংসিত বিদ‘আত। যে বিদ‘আত সুন্নাহ্ কর্তৃক সমর্থিত নয়, সুন্নাহ্ বিরোধী তা নিন্দনীয় বিদ‘আত। তিনি হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য “এটা কতই উত্তম বিদ‘আত” দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।” (ইবন রজব হাম্বলী, জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, খণ্ড–২, পৃষ্ঠা–১৩১)
হাদীস শরীফের আলোকে:
হযরত জরীর ইবনে আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইসলামে নতুন কোনো ভাল কাজের সূচনা করবে সে তার আমলের সওয়াব পাবে, পরবর্তীতে যারা সে আমল করবে তাদের সমান প্রতিদান সে পাবে। তবে তাদের প্রতিদানের কোন কমতি করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইসলামের কোনো মন্দ কাজের সূচনা করল কাজটি প্রচলনের গুনাহ্ এবং পরবর্তীতে সেই অনুযায়ী আমলকারীদের গুনাহ্ তার উপর বর্তাবে। আর সেই আমলকারীদের গুনাহে কোনো কমতি করা হবে না। (সহীহ মুসলিম শরীফ)
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম জুম‘আর খুতবায় এরশাদ করেছেন– ‘‘নিশ্চয়ই সর্বাধিক সত্যবাণী হলো আল্লাহ্র কিতাব, সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর হিদায়াত। সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ। আর প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয় বিদ‘আত, আর প্রত্যেক বিদ‘আত গোমরাহী। (সুনান আন নাসায়ী, হাদীস: ১৫৭৮)
বর্ণিত হাদীস শরীফদ্বয়ে ইসলামে নতুন উদ্ভাবিত বিষয় সমূহ সম্পর্কে শরয়ী নির্দেশ উপস্থাপিত হয়েছে। এতে দ্বীনের সাথে সম্পর্কিত নতুন উদ্ভাবিত আমলের প্রতি উৎসাহ্ পক্ষান্তরে দ্বীনের মধ্যে দ্বীনের নামে ক্বোরআন–সুন্নাহ্র সাথে সাংঘর্ষিক শরীয়ত বিরোধী নতুন নতুন উদ্ভাবিত বিষয় ও আমল থেকে সতর্ক করা হয়েছে। বর্ণিত হাদীস শরীফের আলোকে বিদ‘আতের সংজ্ঞা বিদ‘আতের প্রকারভেদ ও প্রাসঙ্গিক আলোচনার লক্ষ্যে এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। হাদীসে বর্ণিত ‘কুল্লু’ অর্থাৎ ‘প্রত্যেক’ শব্দটি দেখে কেউ যেন মনে না করেন রাসূলুল্লাহ্র যুগের পর নব উদ্ভাবিত ও আবিষ্কৃত প্রতিটি আমল, প্রতিটি নতুন বস্তু হারাম বা গোমরাহী, তাহলে তো বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে জীবনের প্রায় সব ব্যবস্থাকেই বিদ‘আত বলতে হবে। যা হাদীসের উদ্দেশ্য নয়।
হযরতে সাহাবা–ই কেরামের যুগে নতুন বিদ‘আতের প্রচলন:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর যুগে জামাত সহকারে তারাবিহ নামায প্রচলন ছিল না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর সাহাবা–ই কেরাম ক্বোরআন সুন্নাহ্র মূলনীতির আলোকে নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু–এর খিলাফতকালে তারাবিহর নামাযে লোকদেরকে একজন ইমামের পেছনে একত্রিত করা হয়। তিনি বলেছিলে, “এটি কতই না উত্তম নতুন ব্যবস্থা।” (বুখারী, হাদীস–২০১০)
বিদ‘আতে হাসানা :
প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী উল্লেখ করেন,সারমর্ম হলো ফকীহগণের ঐক্যমতে বিদ‘আতে হাসানা হলো মুস্তাহাব। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমানে অসখ্য বরকতময় আমলের শরয়ী ভিত্তি নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য দলিল থাকা সত্ত্বেও শত শত বছর ধরে মুসলিম সমাজে বরকতময় আমল হিসেবে পালিত হয়ে আসা আমল সমূহকে বিদ‘আত আখ্যা দেয়া হচ্ছে শুধু তা নয় এমনকি এসব আমলগুলো সমাজ থেকে উচ্ছেদ ও নির্মূল করার জন্য বিভিন্নভাবে বিরোধিতা করা হচ্ছে। শত শত আলেম ওলামা মুসলিম উম্মাহর অসংখ্য বিজ্ঞ মুহাদ্দিস, ফকীহ, তাফসীরকার, ইসলামী স্কলারদের লিখিত কিতাবের বিরুদ্ধাচারণ করা হচ্ছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম আয়োজন উদ্যাপনকে বিদ‘আত বলা হচ্ছে। ইমাম তিরমিযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, মুহাদ্দিস ইবনে যওজী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৫৯৭ হি.), হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি আলাহি, ইমাম ইবনে হাজর মক্কী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, আল্লামা ইমাম যুরকানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত আল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত ইমাম কুস্তালানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি প্রমুখ বিজ্ঞ বরেণ্য ওলামায়ে কেরামের লিখিত কিতাবের বর্ণনার বিরোধীতা করা হচ্ছে। বিশ্ববিখ্যাত হাদীসের ইমাম হযরত ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ তিরমিযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি কর্তৃক সংকলিত সিহাহ্ সিত্তার অন্যতম হাদীস গ্রন্থ তিরমিযী শরীফে একটি অধ্যায়ে, “মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম শীর্ষক” পরিচ্ছেদ প্রণীত হওয়া সত্ত্বেও মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর বিরোধীতা করা বিদ‘আত আখ্যা দেওয়া নবী বিদ্বেষের পরিচায়ক নয় কি? রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা যখন মন্তব্য করে দেশ বিদ‘আতে ছেয়ে গেছে ভরে গেছে। এসব মন্তব্য ও বক্তব্য কিসের ইঙ্গিত বহন করে। নামাযে বিদ‘আত ভেতরে বিদ‘আত, বাইরে বিদ‘আত, এসব বিদ‘আত যা শরীয়ত কর্তৃক স্বীকৃত অনুমোদিত তা প্রশংসিত, পুণ্যময় ও সওয়াবের। ফরয নামাযের পর, জানাযা নামাযের পর দু‘আ–মুনাজাত করা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর অসংখ্য হাদীস ও সাহাবা–ই কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত। জানাযার পর দু‘আ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যখন মৃত ব্যক্তির উপর নামায আদায় করবে, অতঃপর তার জন্য ইখলাসের সাথে দু‘আ করো। (ইবনে মাজাহ্, হাদীস–১৪৯৭)
বিদ’আতের প্রকারভেদ:
বিচার বিশ্লেষণ না করে মুসলিম সমাজে প্রচিলিত অসংখ্য উদ্ভাবন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল না বলেই ঢালাওভাবে সব বিদআতকে মন্দ বলা বিবেচনা প্রসূত নয়। বুঝতে হবে নতুন হওয়া আর শরীয়ত বিরোধী হওয়া এক নয়। যে বিষয়ের শরীয়ত সম্মত ভিত্তি রয়েছে শুধু নবীজির যুগে বর্তমান রূপে ছিলনা এ কারণে ওটাকে বিদআত বলা সঠিক নয়। মনে রাখতে হবে বিদ’আত সায়্যিয়াহ সুন্নাতের পরিপন্থি পক্ষান্তরে বিদ’আতে হাসানাহ ইসলাম ও মুসলমানের কল্যাণ সাধন করে। বর্তমানে জুমার খুতবায় খোলাফায়ে রাশেদীন, আহলে বাইতে রসূল এর নাম নেয়া হয় এ ধারাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র জীবদ্দশায় ছিলনা ওটাকেও কি বিদ’আত ও গোমরাহী বলবেন? ইমাম ইজ্জুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম (রহ.) বিদ’আতকে পাঁচ প্রকারে ব্যাখ্যা করেছেন, ১. বিদআতে ওয়াজিবাহ, ২. বিদআতে হাসানাহ, ৩. বিদ’আতে মুবাহ, ৪. বিদ’আতে মাকরূহাহ যা অপ্রয়োজনীয়, অনর্থক, ৫. বিদ’আতে সাইয়্যিয়াহ যা সুস্পষ্ট ভাবে কুরআন সুন্নাহ বিরোধী এ বিদআত পরিত্যাজ্য। বিদ’আতে হাসানাহ, শরীয়ত বিরোধী নয় বরং শরীয়তের স্বীকৃত উদ্দেশ্য ও মূলনীতিকে নতুন পদ্ধতি বা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা। যেমন কুরআন সংকলন করা, ত্রিশ পারা কুরআনের বিন্যাস, তারাবির নামাজ প্রতিষ্ঠা, হাদীসের গ্রন্থ সংকলন, ফিকহের কিতাব সমূহ সংকলন, ফতোওয়া প্রণয়ন, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান স্থাপন, প্রতিষ্ঠানের সময় সূচি, পাঠ্য সূচি, সিলেবাস, পাঠ পদ্ধতি, এধরণের অসংখ্য বিষয় বর্তমানের নিয়মে রাসূলুল্লাহর যুগে ছিলনা এসব কিছু যদি কুরআন সুন্নাহ শিক্ষা প্রচারের মাধ্যম হয় এ গুলো মন্দ বিদ’আত নয় বরং উত্তম বিদ’আত। পরিশেষে বলবো, আসুন যা কিছু শরীয়ত কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত ও পরিত্যাজ্য বিদ‘আতে সায়্যিয়াহ্ তা বর্জন করি। যেসব আমল শরীয়ত সম্মত বরকতময় আমল হিসেবে শরীয়তে অনুমোদিত বিদ‘আতে হাসানা হিসেবে পরিগণিত তা আমল করে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সন্তুষ্টি অর্জন করি। আমীন।
লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা–এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী); খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।
[ইসলাম সম্পর্কিত পাঠকের প্রশ্নাবলি ও নানা জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি। আগ্রহীদের বিভাগের নাম উল্লেখ করে নিচের ইমেলে প্রশ্ন পাঠাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
Email : azadieditorial@gmail.com]
হাসনাইন আহমদ
নাজির পাড়া, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: তিলাওয়াতে সিজদার শরয়ী বিধান সম্পর্কে সংক্ষেপে জানালে কৃতার্থ হব।
উত্তর: কোনো ব্যক্তি নিজে আয়াতে সিজদা তিলাওয়াত করলে অথবা তা শুনলে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী তার ওপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয়ে যায়। তাই আয়াতে সিজদা পাঠ বা শ্রবণের পর যথাযথভাবে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা ওয়াজিব। নামাজের বাইরে আয়াতে সিজদা পাঠ বা শ্রবণের পর সিজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ত করে কিবলামুখী হয়ে দাড়িয়ে এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদায় যেতে হবে। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা” পড়ে আবার “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদা থেকে উঠে দাড়াতে হবে, এতে কোনো তাশাহুদ বা সালাম নেই। তাকবীরের সময় হাতও উঠাতে হয় না, সিজদায় যাওয়ার আগে ও সিজদা থেকে ওঠার সময় তাকবির বলা সুন্নাত। দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদায় যাওয়া এবং সিজদা শেষে দাঁড়িয়ে যাওয়া মুস্তাহাব।
নামাযের মধ্যে আয়াতে সিজদা তিলাওয়াত করলে নামাজের মধ্যেই সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে হবে। এটি একটি মাত্র সিজদা করতে হয়। (ফতোয়ায়ে আলমগীরি, খন্ড:১, পৃ: ১৩৩, দুররে মুহতার, খন্ড: ১, পৃ: ৭১৫, ফতোয়ায়ে রযভিয়্যা, খন্ড: ৮, পৃ: ২২৩–২৪০, বাহারে শরীয়ত ১/৪, পৃ: ৭২৮–৭৩৮, ফতোয়ায়ে নঈমীয়া, খন্ড: ২, পৃ: ৩৮৬)













