চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ভাষাগত দক্ষতা অর্জন জরুরি। জিরি মাদ্রাসায় ৬ ভাষা শেখার এই উদ্যোগ ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও দাওয়াহ কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এখানকার শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাষা শিক্ষা, প্রযুক্তি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। জিরি মাদ্রাসার এই উদ্যোগ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের আগে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম আল–জামেয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদ্রাসার নবনির্মিত দাওয়াহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং রেসিডেন্সিয়াল ছাত্র কল্যাণ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পটিয়ায় একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা খোবাইব বিন তৈয়বের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীর গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম, শিল্পপতি সামশুল আলম, সালমা গ্রুপের চেয়ারম্যান শামসুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ আলী, বদিউল আলম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ইমতিয়াজ হোসেন বেলাল, আবু তাহের সওদাগর, শফিকুল আলম চেয়ারম্যান, মঈনুল আলম ছোটন, মাওলানা লুৎফুর রহমান, মুফতি এমদাদ উল্লাহ, ক্বারী মো. লোকমান, মুফতি শোয়াইব, পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা, বিএনপি নেতা আবদুল মাবুদ, মনজুর আলম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইয়াছিন আরকফাত, সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলুসহ মাদ্রাসার শিক্ষক, আলেম–ওলামা, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, নবপ্রতিষ্ঠিত দাওয়াহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি ভাষার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে। ভাষাগুলো হলো– ইংরেজি, স্প্যানিশ, তুর্কি, জাপানি, চীনা এবং আরবি। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হবে কাতার বিশ্ববিদ্যালয় ও জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত কর্মসূচির আওতায়। শুধু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই নয়, বাইরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই কোর্সে অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে।












