চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি–সিএসইর আয়োজনে গতকাল খাতুনগঞ্জের এমএস ট্রেড সেন্টারে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম, সুবিধা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সেমিনারে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্র্জ এসোসিয়েসিনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিএসইর পরিচালক মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, জেনারেল ম্যানেজার এন্ড হেড অফ রিস্ক মানেজমেন্ট ডিভিশন মোহাম্মদ মর্তুজা আলম, জেনারেল ম্যানেজার এন্ড হেড অফ বিজনেস এন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন মোহাম্মদ মনিরুল হক, ডিজিএম এন্ড হেড অফ লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট একেএম শাহরোজ আলম প্রমুখ। সেমিনারে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিষয়ক রেগুলেটরি কাঠামো, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে মূল প্রবন্ধ ও উপস্থাপনা প্রদান করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সিএসইর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কমোডিটি মার্কেট চালুর দ্বারপ্রান্তে আমরা। এই সেমিনারের মাধ্যমে কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের জন্য চলমান বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত জেনে আমরা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। আমাদের অর্থনীতিতে একটি কার্যকর কমোডিটি মার্কেটের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে, স্পট মার্কেটে বিদ্যমান বিভিন্ন ঝুঁকি কমোডিটি মার্কেট চালুর মাধ্যমে অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করি। খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আসসিয়েশন এ বিষয়ে সিএসইর সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, আজকের সেমিনারের পর আরও কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা প্রয়োজন। কমোডিটি মার্কেট সম্পর্কে আমাদের আরও জানতে এবং শিখতে হবে। আমরা আশা করি, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি নতুন মার্কেটের আগমন বাস্তব সম্ভাবনায় রূপ নেবে এবং এটি বিনিয়োগের একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে। সিএসইর পরিচালক মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হচ্ছে বিপুল সম্ভাবনাময় মার্কেট। বিশ্বের বিভিন্ন কমোডিটি মার্কেটে লেনদেনের পরিমাণ হচ্ছে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে কমোডিটি মার্কেট যাত্রা শুরু করলে পুঁজিবাজারের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও লাভবান হবে। তিনি বলেন, গত তিন বছর ধরে সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রনয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং লেনদেন পরিচালনার জন্য প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত। বর্তমানে মার্কেটের অংশগ্রহণকারীদের প্রস্ততির কাজ চলছে। সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হলে খুব শীঘ্রই এই যুগান্তকারী নতুন এক্সচেঞ্জের যাত্রা শুরু হবে।
সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান এমনকি মিয়ানমারেও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোতে একটি কার্যকর কমোডিটি মার্কেট অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। এই মার্কেট নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বিদ্যমান আর্থিক বাজার কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বলেন, একটি স্ট্যান্ডার্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে পণ্যের মূল্য–অস্থিরতা ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং মার্কেট ইকোসিস্টেমের সব অংশের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই ইকোসিস্টেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেন মার্কেট অংশগ্রহণকারীরা। তাদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সিএসই কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করবো–এই খাতুনগঞ্জ ট্রেড এসোসিয়েশন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন এবং আসন্ন কমোডিটি মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












