সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে সরকার চারটি প্রধান সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ইতোমধ্যে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে দুটি সড়ক সিলিমপুর আবাসিক এলাকার ভিতর দিয়ে তৈরির প্রস্তাবনায় আপত্তি জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সিডিএর পক্ষ থেকে বিকল্প সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সিডিএ সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সড়কগুলোর মধ্যে আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ভাটিয়ারীতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এ সড়কের সম্ভাব্য গতিপথে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকার প্লটসমূহ পড়ায় প্লট মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় সিডিএকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন প্রস্তাবিত সংযোগ সড়ক এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সম্ভাব্য রুটগুলো ঘুরে দেখেন এবং মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় যাচাই–বাছাই করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস এবং সিডিএ সিলিমপুর আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে সিডিএর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, বিদ্যমান প্রস্তাবিত সড়কটি বাস্তবায়িত হলে সিলিমপুর আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরে তিন থেকে চারটি টার্নিং পড়বে, যা আবাসিক প্রকল্পের পরিকল্পিত বিন্যাস ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সিডিএর মাস্টার প্ল্যানে নির্ধারিত খালপাড় ঘেঁষে বিকল্প সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে আবাসিক এলাকার প্লট মালিকদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।
এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যমান পরিকল্পনা ও সিডিএর প্রস্তাবিত বিকল্প রুট উভয়টির কারিগরি, অর্থনৈতিক ও বাস্তবসম্মত দিক পর্যালোচনা করা হবে। যে পরিকল্পনাটি অধিক ব্যয় সাশ্রয়ী ও কার্যকর হবে, সেটি চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় সিডিএকে সম্পৃক্ত রেখে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সিডিএ সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর একটি স্পর্শকাতর এলাকা। ওই এলাকার সঙ্গে একটি শান্ত ও সংরক্ষিত আবাসিক এলাকার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হলে আবাসিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় প্লট মালিকদের মতামত নিয়ে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের গ্যাস ও পানি সংকট নিরসনের আশ্বাসও দেন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দ্রুত পানির সংযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ওয়াসা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এলাকার সব নাগরিক দুর্ভোগ দূর করা হবে।












