চুয়েটে দশম দিনেও কমপ্লিট শাটডাউন

গান-কবিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন দশম দিনে গড়িয়েছে। দশম দিন উপাচার্য ভবনের সামনে ‘প্রতিবাদী কনসার্ট’ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়। এছাড়া ক্লাস–পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত ছিলো।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শাটডাউন পালন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সারাদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যায় ভিন্নধর্মী প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে ‘প্রতিবাদী কনসার্ট’ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়। গান, কবিতা আবৃত্তি এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে গত ১০ দিনের আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। একইসঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের নীরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা।

পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা দত্ত প্রিয়া বলেন, ‘সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে দশম দিনের মতো আমাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি করেছি। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে আমাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি প্রশাসনের নীরবতার সমালোচনা করা হয়েছে। আমাদের সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’

এদিকে চলমান এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম একটি জরুরি সভা আহ্বান করলেও আন্দোলনের কারণে কম্পট্রোলার দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা তাতে অংশ নেননি। তবে সভা বয়কটের দুই দিন পর, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করেই ওই দপ্তর থেকে ই–মেইলের মাধ্যমে শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতার ‘স্যালারি শিট’ পাঠানো হয়, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এর আগে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে কুয়েটের উপ–উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন ও শাটডাউনের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষক সমিতি সংহতি প্রকাশ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরেডিও আয়োডিন ক্যাপসুল সংকট
পরবর্তী নিবন্ধখোলামেলা আলোচনায় কাটবে সংকট