পটিয়ায় চাষাবাদের জন্য খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে ওই স্থানে পাকা দালান ও মার্কেট নির্মাণ এবং অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে সে জমি হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মোহাম্মদ ইদ্রিস নামের এক ব্যক্তি শহীদ পরিবার দাবি করে চাষাবাদের নামে এ জমির বন্দোবস্তি নিয়েছিলেন। পরে তিনি সেখানে ৬–৭টি বাণিজ্যিক পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করেন। ২০১০ সালে উপজেলার পাঁচুরিয়া মৌজায় ২২৮৭/২২৮৮ বিএস দাগের ৭ শতক খাস জমি তিনি বন্দোবস্তি নেন। বর্তমানে বন্দোবস্তির শর্ত ভঙ্গ করায় পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা বাতিল করতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে রিপোর্ট প্রদান করেছেন।
এর পূর্বে মো. ইদ্রিসের পিতা মো. মাহমুদুর রহমানের নামে একই জমি একসনা বন্দোবস্তি থাকা অবস্থায় তার মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে স্থানীয় শেখ আহমদ, দিদারুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও কমরুদ্দিন সবুজের নামে তিনশত টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম মূলে তিনজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে চুক্তিনামামূলে ৪ শতক জায়গা দখল ছেড়ে দেন। এবং ওই চার ব্যক্তি বর্তমানে এ জমির দখলে রয়েছেন। এর পর ২০০৬ সালে স্থানীয় শেখ আহমদ, দিদারুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের কাছে ২২৮৭ দাগের ভূমি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প মূলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নির্মিত তিনটি দোকান ঘর না দাবিমূলে দখল ছেড়ে দেন। বর্তমানে এ তিনটি দোকান ঘরের মালাকানা হিসেবে ওই তিনব্যক্তি দখলে রয়েছেন।
এদিকে মোহাম্মদ ইদ্রিস নিজেকে শহীদ পরিবার ও ওই জায়গার বর্তমান দখলদারদের উচ্ছেদ দাবি করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক গত চলতি বছরের ৮ মার্চ পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দখলদার উচ্ছেদের আদেশ দেন। এর পূর্বে বন্দোস্তগ্রহীতা মো. ইদ্রিস একাধিকবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পটিয়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন চলতি বছরের গত ১৩ মার্চ দেয়া এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন, বন্দোবস্ত গ্রহীতা মো. ইদ্রিস বন্দোবস্ত নীতিমালার ৮, ১৩, ২১ নং শর্ত সমূহ ভঙ্গ করেছেন।
এ বিষয়ে অঙ্গীকার চুক্তিনামা ও না দাবিনামা গ্রহীতা শেখ আহমদ জানান, মো. ইদ্রিস এ জায়গা দখল দেয়াতে আমরা এ জায়গার পিছনে আরো জায়গা খরিদ করি। এই জায়গাটি আমাদের চলাচলের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। বন্দোবস্তগ্রহীতা মো. ইদ্রিস না দাবিনামা ও অঙ্গীকার চুক্তিপত্র এবং টাকার বিনিময়ে শর্ত ছাড়লেও বর্তমানে তিনি তা লোভের বশবর্তী হয়ে অস্বীকার করছেন। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটন হোক তা আমরা চাই। তিনি আরো বলেন, তিনি নিজেকে শহীদ পরিবার দাবি করেন। অথচ তার ভাই মো: আসলাম মারা যান ১৯৭৩ সালে। পটিয়ার সরকারি শহীদ পরিবারের নামের তালিকায় তার কোনো নামও নেই। এটা এক ধরণের প্রতারণা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিুবুল ইসলাম জানান, এ জমি নিয়ে বাদী বিবাদীদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। যাতে বন্দোবস্তের বিভিন্ন শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। যার কারণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয়কে এ বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
চাষাবাদের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে কেন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হলো জানতে চাইলে বন্দোবস্তগ্রহীতা মো. ইদ্রিস বলেন, এটা ডিসি সাহেবের বিষয়, এটা কেন করা হয়েছে তা আমি জানি না। তিনি আরো বলেন, এ জমি কারো কাছে স্ট্যাম্পমূলে কিংবা অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়নি। এটা ‘মিথ্যা’ ও ‘বানোয়াট’ এবং ‘ভুয়া’ দলিল সৃষ্টি করা হয়েছে।














