এনসিটি পরিচালনায় জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই অগ্রসর হব

চট্টগ্রামে নৌমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালে (এনসিটি) অপারেশন হ্যান্ডেলিং করার একটি প্রস্তাবনা আছে। সেই প্রস্তাবনার যথেষ্ট ইতিবাচক সম্ভাবনা আছে। আবার ইতিবাচক সম্ভাবনা যেখানে ক্রিয়েট হয়, সেখানে কিছু ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতাও তৈরি হয়। একটি চেঞ্জ যখন আপনি আনবেন, নিশ্চয় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়, আবার কিছু অ্যাচিভ করার সুযোগ হয়। সেগুলো আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করছি। দেশ এবং জনগণের সর্বাধিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই আমরা অগ্রসর হব।

গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। নৌ মন্ত্রী বলেন, আমরা দ্রুত সিদ্ধান্তে যাওয়ার জন্যই কাজ করছি। মুক্ত টেন্ডার, জিটুজি, পিপিপি সব প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া। কোনো একটি প্রপোজাল যখন যে প্রক্রিয়ায় আসে, প্রথমে সে প্রক্রিয়ার সাথেই বার্গেনিং করতে হয়। সে প্রক্রিয়া যদি আমাদের স্বার্থ রক্ষা না করে, ডেফিনেটলি আমরা উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও যেতে পারি। এটার সিদ্ধান্ত অবশ্যই দ্রুততম সময়ে হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে হতে চলেছে, সেটি না যদি হয়, নিশ্চয় তার জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য আছি। কারণ আমরা ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। জনরায়ের ভিত্তিতে আছি। জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। ডেফিনেটলি বর্তমান সরকার সেটি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে। কী সিদ্ধান্ত নেবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জানাব।

প্রস্তাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক অসন্তোষের কথা স্বীকার করে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরা আন্দোলন করছিল, নিশ্চয় তাদের কিছু দাবি আছে, তাদের কিছু ন্যায্যতা আছে। সেটা তারা নিশ্চিত হতে চায়। কিন্তু সেই ন্যায্যতাকে আমরা আমলে নিয়ে আরও বেশি রাষ্ট্রের ন্যায্যতা যদি প্রতিষ্ঠিত করতে পারি নিশ্চয়ই শ্রমিকদের সেখানে রাষ্ট্রপ্রেম বা দেশপ্রেমের জায়গায় তো তারা উদার হবে, যদি না তারা ডিপ্রাইভ হয়। আবার আমাদের বৃহত্তর স্বার্থটাও চিন্তা করতে হবে। আমরা একটা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ব ফেস করছি। আমাদের সম্ভাবনাগুলো যদি কাজে লাগাতে চাই, ডেফিনিটলি যারা বিনিয়োগ করবে তাদের কিছু রাইট রয়েছে। সেখানেও একটি প্রতিযোগিতা আছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ভিয়েতনাম যে সুবিধা দিচ্ছে, শ্রীলঙ্কা, ইন্ডিয়া সুবিধা দিয়ে আবার তারা সুবিধা নিচ্ছে। আমাদেরও কোনো কোনো জায়গায় একটু উদার হয়ে বেশি সম্ভাবনা বা বেশি সুবিধা নেওয়ার মানসিকতা ক্রিয়েট করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, শুধু নিয়ম বহির্ভূত খালি জায়গা বরাদ্দ না, কোনো কাজই নিয়মবহির্ভূত হবে না। হওয়া উচিতও না। কিন্তু কোথায় নিয়ম বহির্ভূত হয়েছে সেটি শোনা একরকম, বিশ্লেষণ একরকম। আমরা বরং একটু বিশ্লেষণ করে দেখি। লালদিয়া, বে টার্মিনাল, পতেঙ্গা টার্মিনাল করে নিশ্চয় আমাদের ক্যাপাসিটি বাড়াচ্ছি। এর প্রয়োজনও রয়েছে। আমি যেটা জানলাম, ৪০ শতাংশ খালি কন্টেনার যাচ্ছে দেশের বাইরে। তার মানে আমার রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে। এ সুফল সম্পূর্ণ রাষ্ট্র পেত। প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানিরপ্তানি এ পোর্টকেন্দ্রিক হয়। দৃশ্যমান অর্জন এ পোর্টের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠিতএটা প্রমাণিত। যার ফলে এটার সর্বাধিক ব্যবহার করতে চাই। মনে রাখা দরকার, সর্বাধিক ব্যবহার যখন আপনি চাইবেন প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে কোনো কিছু আপনি সেক্রিফাইস করছেন। কিন্তু আপনি যখন ধৈর্য রাখবেন, সেটি যখন পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হবে, দেখবেন অনেক বেশি সুফল আমরা পেতে চলেছি। যে কন্টেনার টার্মিনালগুলো ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, প্রস্তাবনাগুলো আছে, সেগুলো দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে বিবেচনা করছি। আমার বিশ্বাস নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে আপনার সেই জবাবদিহিমূলক চুক্তি ও প্রকল্প নিশ্চিতভাবে পাবেন।

অনিয়ম দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যদি হয়ে থাকে বিগত দিনে, শুধু চট্টগ্রাম পোর্ট না, বাংলাদেশে যেভাবে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে, প্রকল্পের নামে অপব্যবহার হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে, সরকার প্রতিটি খতিয়ে দেখছে। আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব অনিয়ম আপনারা অভিযোগ করে বললেন, আবার কিছু অভিযোগ ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় স্বউদ্যোগে বিবেচনা করছে, তদন্ত করছে। তদন্ত অব্যাহত থাকবে, প্রকাশ করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সময় নৌ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ