চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলে বারবার শর্টসার্কিট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে শিক্ষার্থীদের কক্ষে থাকা ফ্যান, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জার, টেবিল ল্যাম্প ও প্রিন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও প্রকৌশল দপ্তরের কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এর স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। গত রবিবারও রাত ৮টার দিকে শর্টসার্কিট হয়ে প্রায় ২ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
হল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সোহরাওয়ার্দী হলে বারবার শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটছে। হুটহাট শর্টসার্কিটের কারণে শিক্ষার্থীদের রুমে থাকা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে হল সংসদের পক্ষ থেকে গত ১০ মাসে চারবার প্রকৌশল দপ্তরে লিখিত পত্র দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর, চলতি বছরের ২১ জুলাই, ১১ আগস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর এসব পত্র পাঠিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, তাদের লিখিত নোটটি হিসাব (অ্যাকাউন্টস) শাখায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির অগ্রগতি জানতে হল সংসদের পক্ষ থেকে হিসাব শাখায় যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয়, সোহরাওয়ার্দী হলের বৈদ্যুতিক সংস্কার সংক্রান্ত কোনো লিখিত নোট প্রকৌশল দপ্তর থেকে তাদের কাছে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমস্যার কথা বারবার হল প্রশাসনকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। এ ছাড়া প্রকৌশল দপ্তর ও হিসাব শাখার মধ্যে নোট প্রেরণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির কার্যকর সমাধান হয়নি এবং বিষয়টি এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের এজিএস রেসালাত লিছান বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে বারবার বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুরাতন এই হলে কোনো সার্কিট ব্রেকার বা প্যানেল বোর্ড না থাকায় বারবার শর্টসার্কিটের সৃষ্টি হয়। যার ফলে শিক্ষার্থীদের ফোন, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জার ও ফ্যানসহ মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যায়। রেসালাত লিছান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার কথা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইঞ্জিনিয়ার অফিসে বহুবার লিখিত নোট দিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া তিনি দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস ওয়াহিদের প্রতি মিথ্যা আশ্বাস ও গাফিলতির অভিযোগ করে বলেন, অ্যাকাউন্টস শাখায় কোনো বিল না পাঠিয়েও আমাদেরকে বারবার পাঠিয়েছে বলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে। বাস্তবে তারা কোনো বিলই পাঠায়নি। আর ইঞ্জিনিয়ার অফিস ও অ্যাকাউন্টস ভবনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা এবং বাজেট পাসের ক্ষেত্রে টালবাহানার কারণে বারবার পিএন্ডডি মিস হয়েছে। যার ফলাফল শিক্ষার্থীদের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষতি। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন নির্বাহী বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি বলেন, ‘তারা বাজেট চেয়ে প্রস্তাব পাঠালেও অ্যাকাউন্টস অফিসে অর্থ ঘাটতি থাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার বাজেট এসেছে। পাস হলেই আমরা কাজ শুরু করব।’ তবে হিসাব নিয়ামক আমিরুল ইসলাম ও উপ–হিসাব নিয়ামক মহিউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তারা উভয়েই জানান, তাদের কাছে এই সমস্যার কোনো লিখিত পত্র পাওয়া যায়নি। এ রকম কোনো পত্র তাদের চোখেও পড়েনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে এ রকম কোনো পত্র আসেনি। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে বসব। যদিও এখানে বিদ্যুতের বিষয়টি পিডিপির হাতে। এ ছাড়া পুরো দেশে এখন তো বিদ্যুতের বেহাল দশা। তারপরেও যত দ্রুত পারি স্থায়ী সমাধানের দিকে যাব।










