চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীর কর্ণেল জোন্স রোডের জাস এক্সেসরিজ বিডি লিমিটেডে বন্ড সুবিধার ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি কাঁচামালের হদিস পায়নি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ২৮ সেপ্টেম্বর চলা সেই অভিযানে ৯ দশমিক ১০ কোটি টাকা শুল্ক কর ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে সংস্থাটি। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনিবআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাস এক্সেসরিজ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা। তবে কাস্টমস গোয়েন্দার পরিদর্শনে বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি। অর্থাৎ গুদামে প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের কোনো হদিস মেলেনি। এ ঘটনায় না পাওয়া কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এসব পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক–কর প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
এনবিআর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ডেড সুবিধার আওতায় এলডিপি, এইডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে। পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ইউটিলাইজেশন পারমিশনের (ইউপি) তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে থাকা কাঁচামালের প্রকৃত মজুত যাচাই করা হয়। এতে হিসাব ও বাস্তব মজুতের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়।
এনবিআর জানায়, সিআইআইডির যাচাই অনুযায়ী অনলাইন ইউপি–এর তথ্য অনুসারে প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড ওয়্যারহাউসে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। কিন্তু সরেজমিনে পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি। ফলে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সর্বশেষ আমদানিকৃত বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য বিবেচনায় গুদামে না পাওয়া কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এসব কাঁচামালের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক–করাদির পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।
এনবিআর জানায়, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল গুদামে না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে সিআইআইডি। এসব কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে–তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, তদন্ত ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










