গরু ক্রেতা সেজে ১৬ ভরি স্বর্ণসহ প্রতারককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

পটিয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২৭ জুলাই, ২০২৩ at ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

গরু ক্রেতা সেজে ১৬ ভরি স্বর্ণসহ মো. রাসেল (৩৮) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পটিয়ার হাইদগাঁও গিনি হাউস থেকে নিয়ে যাওয়া ১২ ভরি ও শরিয়তপুর থেকে ৪ ভরি ১৪ আনাসহ ১৬ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পটিয়া থানা পুলিশ। গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেপ্তার মো. রাসেল শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার বড়কান্দি ইউপির টিএন্ডটি মোড় এলাকার মৃত আবদুল খালেকের পুত্র।

পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ ড. আশিক মাহমুদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণসহ রাসেল নামের এই প্রতারককে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আটক করে পটিয়া থানা পুলিশ। আটক প্রতারক নিজকে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গত ১৪ জুলাই পটিয়া স্টেশন রোডের হাইদগাঁও গিনি হাউস থেকে ক্রেতা সেজে ১২ ভরি স্বর্ণ কেনে। পরে একটি ব্যাগে স্বর্ণগুলো ঢুকানোর নামে কৌশলে তার পাঞ্জাবীর পকেটে স্বর্ণের বক্সটি নিয়ে খালি ব্যাগটি ব্যবসায়ীর হাতে রেখে ব্যাংক থেকে টাকার আনার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে গত ১৮ জুলাই জুয়েলার্সের মালিক কেশব ধর পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ক্লুলেশ সেই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তির আশ্রয় নেয়। বার বার সে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকায় তাকে ধরতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। পরে পুলিশ গরু ক্রেতা সেজে ঐ এলাকায় অবস্থান নিয়ে তাকে আটক করে। আটকের সময় পটিয়া থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত ১২ ভরি স্বর্ণ ছাড়াও ৩ মাস আগে শরীয়তপুর থেকে চুরি করা ৪ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণসহ মোট ১৬ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করে। প্রতারক চক্রটি এই সব স্বর্ণ নারায়ণগঞ্জের কালির বাজারের পিকে জুয়েলার্সের নিকট বিক্রি করে বলে জানিয়েছে। পটিয়া থেকে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকারগুলো সে সম্পূর্ণ গলিয়ে বিস্কুটে পরিণত করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডক্টর আশিক মাহমুদ ব্যবসায়ীদের সতর্কতার সাথে লেনদেনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, পটিয়ায় অপরাধ করে কোথাও পালিয়ে থাকা যাবে না। সংবাদ ব্রিফিংয়ে পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই উৎপল সরকার সহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হাইদগাঁও গিনি হাউজের মালিক কেশব ধর জানান, প্রতারক খুবই চতুর ব্যক্তি। আমি কল্পনাও করিনি আমার কাছ থেকে প্রতারণা করে নিয়ে যাওয়া ১২ ভরি স্বর্ণ আমি ফেরত পাব। পটিয়া থানা পুলিশের প্রাণান্তকর চেষ্টায় আমার সে স্বর্ণগুলো ফিরে পেলাম। সে জন্য আমি আইনশৃংখলা বাহিনী ও পটিয়া থানা পুলিশের নিকট কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইতালি সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধ২১ বছর বয়সে ১২ জনের ছিনতাই গ্রুপ ছাড়িয়ে নিতে অসংখ্য তদ্বির