খাগড়াছড়ির চিরহরিৎ বনে দুর্লভ কালো বাজ

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি | বুধবার , ১০ জুন, ২০২৬ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

জ্যৈষ্ঠের বিকেল। আকাশে মেঘ জমছে। চারপাশের সবুজ বনজুড়ে নীরবতা ভাঙছে পোকার শব্দ। বৃষ্টির আগেই ফিরতে হবে। তখনই রবিরঞ্জন চাকমার চোখে পড়ল ব্ল্যাক বাজা বা কালো বাজ পাখি। ছবি তোলার প্রস্তুতি নিতেই তিনটি কালো বাজ মাঝারি উচ্চতার একটি কড়ই গাছে উঠে বসল। এ প্রজাতির পাখি খুব একটা দেখা যায় না। শেষ বিকেলের আলোয় এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে যাচ্ছিল।

চলতি বছরের শীতে মাত্র একটি কালো বাজ দেখেছিলাম। তাও বেশ দূর থেকে। এবার সে আক্ষেপের শেষ হল। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের একটি পাড়াবনে তাদের দেখা যায়। প্রায় ১৫০ একরের এ বনে কালো বাজ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।

ব্ল্যাক বাজা বা কালো বাজ বাংলাদেশের চিরহরিৎ বনে এক দুর্লভ ও আকর্ষণীয় শিকারি পাখি। তাদের শরীর কালোসাদা। মাথার পেছনে খাড়া ঝুঁটি থাকায় পাখিটি সহজেই অন্য শিকারি পাখি থেকে আলাদা করা যায়। দেখতেও বেশ সুর্দশন।

আমাদের সাথে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা রবিরঞ্জন চাকমা বলেন, কিছুদিন আগে বেশ উঁচু গাছের ডালে কালো বাজ বাসা বানিয়েছে। সেখানে বাচ্চা ফুটিয়েছে। এগুলো সম্ভবত নতুন ফোটানা বাচ্চা। তবে কালো বাজগুলো আকারে বড়। এখানে পাড়া থাকার কারণে কেউ শিকার করতে পারে না। ফলে পাখিরা বেশ নিরাপদে থাকে।

ব্ল্যাক বাজা বা কালো বাজ মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলে বসবাসকারী মাঝারি আকারের একটি শিকারি পাখি। বাংলাদেশে এটি আবাসিক ও পরিযায়ী উভয় অবস্থাতেই দেখা যায়। খাগড়াছড়ি ছাড়াও বান্দরবান ও রাঙামাটির বনে এদের দেখা যায়। এছাড়া সিলেটের বনাঞ্চল এবং কিছু সংরক্ষিত অরণ্যে এদের দেখা পাওয়ার রের্কড আছে। প্রাপ্তবয়স্ক কালো বাজের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৩৫ সেন্টিমিটার হয়। আকারে কাকের চেয়ে কিছুটা ছোট। মাথা, পিঠ ও বুক কালো রঙের হলেও ডানায় সাদা দাগ এবং পেটের নিচের অংশে লালচেবাদামি আভা দেখা যায়। মাথার পেছনের কালো ঝুঁটিই এ পাখির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। প্রধানত উড়ন্ত পোকামাকড়, ফড়িং, গুবরে পোকা, ঝিঁঝিঁ পোকা এবং ছোট আকারের সরীসৃপ শিকার করে তারা। প্রজনন মৌসুমে উঁচু গাছের ডালে ছোট বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। বনাঞ্চলের সুস্থ পরিবেশ ও বড় গাছের উপস্থিতি এদের বংশবিস্তারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বায়েডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির আহ্বায়ক সবুজ চাকমা বলেন, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, আবাসস্থল ধ্বংসসহ নানা কারণে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। কালো বাজ পাহাড়ি অঞ্চলের পাখি। এখনো গভীর বনাঞ্চলে তাদের দেখা যায়। তবে পাখির সুরক্ষায় প্রাকৃতিক বন সৃজন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেন্ডার সেপ্টেম্বরে, চার মাসের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ
পরবর্তী নিবন্ধহাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ : সংসদে অর্থমন্ত্রী