টানা ১৯ দিনের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় যোগ দিতে ঢাকা যাওয়ার প্রশাসনিক অজুহাতে দুই দিনের জন্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আরাফাত রহমানকে ভারপ্রাপ্ত (রুটিন দায়িত্ব) উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সংকট নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ না থাকায় আন্দোলন কর্মসূচি আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। গতকাল শনিবার সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাছান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি (অতিরিক্ত দায়িত্বসহ) ও অবস্থান ধর্মঘট আরও জোরদার করা হবে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, বহিরাগত কাউকে কোনো অবস্থাতেই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা মেনে নেবেন না এবং চুয়েটের মধ্য থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন করার দাবিতে তারা একাট্টা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে ‘বহিরাগত’ উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। প্রতিবাদের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়ালি যোগদানপত্র পাঠালেও এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে পা রাখতে পারেননি নতুন উপাচার্য। এরপর থেকে তিনি চট্টগ্রাম শহরে সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন।
অচলাবস্থার মধ্যে আজ ও আগামীকাল ঢাকায় ইউজিসির সভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল বিকালে ঢাকা যাত্রা করেন উপাচার্য। এর আগে ৯ অক্টোবর ই–মেইল বার্তায় অধ্যাপক মো. আরাফাত রহমানকে রুটিন দায়িত্ব অর্পণ করেন তিনি। তবে চুয়েটের নিজস্ব আইন অনুযায়ী, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে উপ–উপাচার্য, ট্রেজারার কিংবা জ্যেষ্ঠতম ডিনদের দায়িত্ব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনো অনুষদের ডিনকে দায়িত্ব না দিয়ে একজন বিভাগীয় প্রধানকে এই দায়িত্বে বসানো নিয়ে প্রশাসনিক নিয়মকানুনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গণমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করেন, রুটিন দায়িত্ব যেকোনো একজন অধ্যাপককে অর্পণ করলেই চলে। এর জন্য ডিনদের দায়িত্ব দিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. আরাফাত রহমান জানান, উপাচার্যের দৈনন্দিন কাজের ধারা বজায় রাখতে তিনি যেখানে অবস্থান করবেন সেখান থেকেই এই প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে বোঝানোর চেষ্টা করব।










