উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা আর কতদিন

প্রশ্ন নগরবাসীর পুনর্দখল রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে : মেয়র

মোরশেদ তালুকদার | রবিবার , ৭ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নগরের আগ্রাবাদ, বায়েজিদ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, নিউ মার্কেট মোড়, স্টেশন রোড, সদরঘাট রোডসহ আশেপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে বসা হকার উচ্ছেদে প্রায় অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অসংখ্যবার সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে উপস্থিত হয়ে ফুটপাত দখলকারীদের সতর্ক করেন।

সর্বশেষ গত ২১ মে স্টেশন রোড এলাকায় উপস্থিত হয়ে ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এমনকি মানবিক বিবেচনায় হকারদের বসার জন্য সময়ও ঠিক করে দেন। এত কিছুর পরও শৃঙ্খলায় আসেনি হকাররা। অভিযানের কয়েক ঘণ্টা না যেতেই আবারও ফুটপাত দখল করে তারা। এ অবস্থায় সাধারণ নগরবাসীর প্রশ্ন, উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা কতদিন চলবে? হকাররা কি শৃঙ্খলায় আসবে না?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, অবৈধভাবে বসা হকার উচ্ছেদে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। কিন্তু পুনর্দখল রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে। যে এলাকায় অভিযান চালাই ওই এলাকায় থানা পুলিশ যদি মনিটরিং করে তাহলে হকাররা আর বসতে পারবে না। হকাররা ফুটপাতের পাশাপাশি রাস্তাও দখল করে নেয়। এতে যানজট লেগে যায়। যানজট নিয়ে কাজ করে ট্রাফিক পুলিশ। সেক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ যদি একটু কঠোর হয় তাহলে হকাররা রাস্তা দখল করতে পারবে না। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অনেকবার বলেছি। যদি পুলিশ চায়, স্থানীয় থানাগুলো চায় তাহলে হকাররা বসতে পারবে না।

মেয়র বলেন, বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের সামনে ফুটপাতে হকাররা বসে যায়। এতে ওইসব মার্কেট ও দোকানের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে সমস্যা হয়। তাই তাদেরও সচেতন হতে হবে। তাদেরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফুটপাতসড়ক দখলমুক্ত রাখা যাবে।

হকার উচ্ছেদের দাবি ১৪ বছরের পুরনো : অবৈধ হকারদের দখল থেকে ফুটপাতকে মুক্ত করার জন্য ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি নগরের নিউ মার্কেট সংলগ্ন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে তৎকালীন সিএমপি কমিশনারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এরপর কেটে গেছে ১৪ বছর। দীর্ঘ এ সময় ফুটপাত দখলমুক্ত হয়নি, উল্টো বেড়েছে দখল।

শৃঙ্খলায় আনতে নানা উদ্যোগ : ২০২৫ সালের এপ্রিলে নগরে ফুটপাতে হকার বসার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল চসিক। নির্ধারণ করা সময় অনুযায়ী, সকালে হকার বসতে পারবে না। বিকাল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বসতে হবে তাদের। বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমে ইভনিং মার্কেটে রূপ দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে ওই সময় জানান মেয়র। এরপর গত নভেম্বরে নিউ মার্কেট মোড়ে বিকাল ৪টার আগে হকারদের না বসার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা হকাররা মেনে নেয়। এছাড়া আগ্রাবাাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ৬টার আগে হকার না বসার নির্দেশনা আছে চসিকের। বাস্তবে সে নির্দেশনা মানছে না হকাররা। এমনকি অভিযান চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানার আমতল থেকে নিউ মার্কেট হয়ে ফলমণ্ডি পর্যন্ত অভিযান চলিয়ে সাড়ে চার হাজার হকার উচ্ছেদ করে চসিক। কয়েকদিন না যেতেই হকাররা ফিরে আসে পুরনো জায়গায়। পুনর্দখল ঠেকাতে ১২ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালায় চসিক। ওইদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর হামলা করে হকাররা। এ সময় অভিযানে অংশ নেওয়া চসিকের একজন নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট, পাঁচ পুলিশ সদস্য, চসিকের স্ট্রাইকিং ফোর্সের এক সদস্য ও এক উচ্ছেদকর্মী আহত হন।

এর আগে ২০১৬ সালে নিজ মেয়াদে সর্বপ্রথম হকারদের শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগ নেন তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ওই বছরের ১৩ মার্চ চসিক ও হকারদের দুটি বৃহত্তম ফেডারেশনের সাথে বৈঠক করেছিলেন তিনি। ওই বৈঠকে হকারদের তালিকা প্রণয়ন, পরিচয়পত্র প্রদান এবং স্থান নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে হকারদের বসার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। এর আলোকে বৃহস্পতিবার ২টা থেকে, শুক্রবার ও শনিবারসহ সরকারি বন্ধের দিনে পূর্ণ দিবস এবং বাকি দিনগুলোতে গ্রীষ্মকালে বিকাল ৫টা এবং শীতকালে বিকাল ৩টায় হকাররা ব্যবসা করতে পারবে। সেক্ষেত্রে পথচারীদের চলাচলে জায়গা রাখারও শর্ত ছিল। হকাররা সেটা মেনে নিয়েছিল। কিছুদিন নিয়ম মেনে ব্যবসাও করে তারা। কিন্তু আবারো ফিরে যায় পূর্বের অবস্থায়।

২০১২ সালে তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমও হকার নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেন। একই বছরের ১৮ নভেম্বর হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে চসিক, যার চেয়ারম্যান ছিলেন মেয়র। কিন্তু হকারদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়নি।

কী পরিমাণ হকার : ২০১৭ সালের জুন থেকে দুই দফায় ৮ হাজার ৫৯৯ জন হকারের একটি তালিকা করেছিল চসিক। তবে বাস্তবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারের সংখ্যা আরো বেশি। নগরে ৬টি হকার্স সংগঠন এবং ১ সমন্বিত সংগঠন মিলিয়ে ৭ সংগঠনের মাধ্যমে তারা ব্যবসা করে আসছে, যার সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজার মহাসড়কে জাইকার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু
পরবর্তী নিবন্ধযুবলীগ, ছাত্রলীগের ১৩ জন গ্রেপ্তার, দুটি বাস জব্দ