জাইকার অর্থায়নে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৫.২৭ কিলোমিটার অংশে ৪টি বাইপাস ও ১টি ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পে অবশেষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। দাতা সংস্থা জাইকার নিজস্ব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গত এক মাস ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং এই প্রকল্পের পরিচালক শ্যামল কুমার ভট্টাচার্য্য।
স্থানীয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবশেষে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ৬ লেনের ৪টি বাইপাস ও ১টি ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রকল্প অবশেষে আলোর মুখ দেখছে।
মহাসড়কের পটিয়া, দোহাজারী, চকরিয়া ও আমিরাবাদে ১টি করে বাইপাস এবং সাতকানিয়ার কেরানীহাটে একটি ফ্লাইওভার নির্মিত হবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে জাইকা ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ২ হাজার ৮৪৭ কোটি ৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা প্রদান করবে। ভূমি অধিগ্রহণের এই টাকা দেয়া হবে সরকারি ফান্ড থেকে।
এই ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং এই প্রকল্পের পরিচালক শ্যামল কুমার ভট্টাচার্য্য আজাদীকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম–কঙবাজার মহাসড়ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রায় ২ মাস হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে গত এক মাস ধরে। এই প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৫.২৭ কিলোমিটার অংশে ৪টি বাইপাস ও ১টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের মূল অর্থদাতা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা–জাইকার সাথে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পে অর্থায়নের কোনো সমস্যা নেই। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ডিটেইল ডিজাইনের পর শুরু হবে ভূমি অধিগ্রহণ। এরপর টেন্ডারে যাবো আমরা।’
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য বাইপাসগুলো এবং ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য হল–পটিয়া বাইপাস ৫.৭২ কিলোমিটার, দোহাজারী বাইপাস ৩.৫১ কিলোমিটার, লোহাগাড়া বাইপাস ৪.২৫ কিলোমিটার এবং চকরিয়া বাইপাস ৭.৪৭ কিলোমিটার। অপরদিকে, সাতকানিয়ার কেরানীহাটে নির্মিতব্য ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য হবে ৩.৩ কিলোমিটার। সাতকানিয়ার এই অংশের কঙবাজার রেল লাইনের ক্রসিংয়ের আগে থেকে পুরো কেরানীহাট নিয়ে এই ফ্লাইওভারটি নির্মিত হবে। দুই পাশের সংযোগ সড়ক ছাড়া মূল ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য হবে ২.৬ কিলোমিটার।
এছাড়াও, জাইকার অর্থায়নে এরই মধ্যে কঙবাজার মহাসড়কের পটিয়া, চানখালী, চন্দনাইশের দোহাজারী শঙ্খ নদী ও বরুমতি খালের উপর এবং কঙবাজারের মাতামুহুরী নদীর উপর ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয় চারটি অত্যাধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম–কঙবাজার মহাসড়ক দিয়ে পর্যটন নগরী কঙবাজারে প্রতিদিন পর্যটকবাহী বিপুল সংখ্যক গাড়িসহ মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের পণ্যবাহী গাড়ির চাপ সামাল দিতে এই মহাসড়কে ৪টি বাইপাস এবং একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।











