চলতি বছরের ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১,৩৪০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়কপথে ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১,২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫ শতাংশ, নিহতের সংখ্যা ৩.০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
গতকাল রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনের দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।
সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদকালীন ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮.৮৩ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক কর্মী রয়েছেন। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬.৪৪ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৯.১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কায়, ১৭.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং ১.৫২ শতাংশ ট্রেন–যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮.৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.৫৬ শতাংশ বাস, ১২.৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭.৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬.৫৬ শতাংশ নছিমন–করিমন এবং ৬.৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল। সমিতির মতে, জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, সড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, ডিভাইডার না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি এবং চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতকে নিরাপদ করতে শুধু কয়েকদিনের বিশেষ তৎপরতা যথেষ্ট নয়। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলা জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের সহসভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর কবির বিটু, মনজুর হোসেন ইসা, সুবাস চন্দ্র দাশ, মনজুর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।











