আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল সবকটি শ্রেণিকক্ষ। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা। তবে সেই শঙ্কা কাটিয়ে মাত্র চার দিনের মাথায় বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লাসে ফিরেছে তারা। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল বুধবার থেকে অস্থায়ীভাবে পুনরায় পাঠদান শুরু হয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে এক ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় পুরো বিদ্যালয়টি। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত ও ইউএনও কাজী শামীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয়টি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা তার পরিত্যক্ত একটি পোল্ট্রি শেড শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেন। উপজেলা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সেখানে বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার, হোয়াইটবোর্ড ও ঘণ্টাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে।
গতকাল অস্থায়ী ওই শেডে শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থায়ী স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বুধবার থেকে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল।
২০২২ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
দ্রুত পাঠদান শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা খলিল মেম্বার বলেন, এত দ্রুত স্কুল চালু হবে কল্পনাও করিনি। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় এটি সম্ভব হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, আগুনে পুরো বিদ্যালয় ভবনটি পুড়ে যাওয়ার পর অস্থায়ীভাবে শ্রেণিকাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।












