শেখার বিভিন্ন কৌশল

ডা. বরুণ কুমার আচার্য | বুধবার , ৪ নভেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

সব শিশু একভাবে শেখে না। অনেক শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর দৃঢ় বিশ্বাস জোরে জোরে পড়ার মাধ্যমে পঠিত শব্দ শুনে শুনে সবচেয়ে ভালো শেখা যায়। আবার দেখা যায় অনেক শিশু জোরে জোরে না পড়েও ভালো শিখতে পারে। আবার কেউ কেউ ছবি, মানচিত্র বা প্রতীকের মতো উপকরণের সহায়তায় তাড়াতাড়ি শিখে নিতে পারে। আসলে শিশুর শেখার কৌশলের শেষ নেই। একেক শিশু একেকভাবে শেখে। যেমন– শোনার মাধ্যমে, ছবির মাধ্যমে, গল্প বলার মাধ্যমে, গানের মাধ্যমে, পড়ার মাধ্যমে, অনুকরণ করে, অনুসরণ করে, লেখার মাধ্যমে, অভিনয় করে, চিন্তা করে, যুক্তি খাটিয়ে, হাতে–কলমে কাজ করে, গণনা করে, খেলার মাধ্যমে, তুলনা করে, পর্যালোচনা করে, বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে, পরীক্ষা করে, গল্পের মাধ্যমে, দলে কাজ করে, স্বাদ গ্রহণ করে, অনুসন্ধান করে, স্পর্শের মাধ্যমে, নাচের মাধ্যমে, আলোচনা করে, দেখার মাধ্যমে, ভ্রমণের মাধ্যমে, অংশগ্রহণ করে, কল্পনা করে, অনুশীলন করে, পুনঃলিখনের মাধ্যমে, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, মডেল বা চার্ট দেখে, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে, পুনরাবৃত্তি করে ইত্যাদি।

প্রতিটি শিশু অনন্য। প্রতিটি শিশুই অসীম সম্ভাবনাময়। আজকের ছোট্ট একটি শিশুর মধ্যে কী সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে তা পূর্ব থেকে বলার কোন সুযোগ নেই। তাই প্রতিটি শিশুর প্রতি আমাদের আস্থা রাখতে হবে।

কাউকে অবজ্ঞা বা খাটো করে দেখা যাবে না। সবাইকে সমভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। মূলকথা ভিন্ন ভিন্ন শিশু ভিন্ন ভিন্নভাবে সহজে শেখে। শিশু–শিখন কৌশলগুলোকে আমরা আবার শিখনের বিভিন্ন ধরন হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। যেমন– দৃষ্টিনির্ভর শিক্ষার্থীরা উপস্থাপিত তথ্যগুলো দেখে খুব সহজেই কার্যকরভাবে শেখে। এক্ষেত্রে শিক্ষকের অঙ্গভঙ্গি ও প্রকাশভঙ্গি শিক্ষার্থীর বোধগম্যতার মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়। শ্রবণনির্ভর শিক্ষার্থীরা তথাগুলো বলে বা শুনে খুবই কার্যকরভাবে শেখে এরা বক্তৃতা শুনে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভালোভাবে শেখে। পঠননির্ভর শিক্ষার্থীরা কোন লিখিত বিষয়বস্তুর তথ্যগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে খুবই সহজে কার্যকরভাবে শেখে। যে সব শিক্ষক বোর্ড, ওভারহেড প্রজেক্টর ব্যবহার করেন বা পড়ার জন্য কোন বিষয়বস্তু সরবরাহ করেন তাদের কাছ থেকে এ ধরনের শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হয়।

অনুভূতি–স্পর্শনির্ভর শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে শরীরের অঙ্গ–প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে তথ্যগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সহজে শেখে। অর্থাৎ এরা শরীরের নড়াচড়া এবং স্পর্শানুভূতি বা ছোঁয়ার মাধ্যমে শেখে। এ ক্ষেত্রে এ ধরনের শিক্ষার্থীরা হাতে–কলমের কাজ এবং তাদের পরিবেশকে সক্রিয়ভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে সহজে শেখে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি চাই নিরাপদ চিকিৎসাব্যবস্থা
পরবর্তী নিবন্ধআপন ঠিকানা